গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ৬৭ শিশু নিহত: ইউনিসেফ

গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ৬৭ শিশু নিহত: ইউনিসেফ
যুদ্ধবিরতিতেও অনিরাপদ গাজার শিশুরা। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

গাজায় যদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও ক্রমাগত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৭ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ। শুক্রবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার মুখপাত্র রিকার্দো পিরেস এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘এগুলো শুধু সংখ্যা নয়। প্রতিটি শিশুই এককেটি জীবন্ত প্রাণ ছিল। যারা ছুটে বেড়াতো, যারা প্রত্যেকেই তাদের বাবা-মায়ের অতি আদরে, যত্নে লালিত সন্তান; একটি স্বপ্ন।’

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত ১০ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ফিলিস্তিনি বন্দি ও ইসরায়েলি জিম্মি বিনিময়ের শর্তে এ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় দুই পক্ষ। তবে এরপরও গাজায় হামলা পুরোপুরি বন্ধ করেনি বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার।

রিকার্দো বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক মেয়ে শিশু নিহত হয়েছে। এর আগের দিন ইসরায়েলের একাধিক হামলায় আরও সাত শিশু প্রাণ হারায়।’

গাজা
গাজায় বাড়ছে শিশুর মৃত্যুর মিছিল। ছবি: এপি/ইউএনবি

ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৬৪ হাজারের বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানায়, ২০২৪ সালে প্রতি মাসে গড়ে ৪৭৫ শিশুর স্থায়ী অঙ্গহানি হয়েছে। এছাড়া প্রতিমাসে শতাধিক শিশু মস্তিষ্কে আঘাত, গুরুতর দগ্ধ ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, গাজা এখন ‘আধুনিক ইতিহাসের শিশুদের অঙ্গহানির জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা।’

আরও পড়ুন

ইসরায়েলি হামলায় চলতি সপ্তাহে অন্তত ৩২ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজায় স্বাস্থ্য বিভাগ। চিকিৎসকদের সহায়তা সংগঠন এমএসএফ জানায়, তাদের দল গুলি ও বিস্ফোরণে গুরুতর আহত বেশ কয়েকজন নারী ও শিশুকে চিকিৎসা দিয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলের অবরোধ ও ত্রাণের ট্রাক গাজায় প্রবেশে বাধা দেওয়ায় উপত্যকায় খাদ্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অনাহার ও পুষ্টিহীনতায়ও একেরপর এক শিশু মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন মানবিক সংস্থা। ত্রাণের তাবু, উষ্ণ কাপড় ও জরুরি চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ঢুকতে না পারায় শীতে হাজার হাজার শিশু খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে।

ইউনিসেফ মুখপাত্র পিরেস বলেন, ‘গাজার শিশুদের জন্য কোথাও নিরাপদ জায়গা নেই। শীত তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে; কোনো হিটার নেই, নেই পর্যাপ্ত কম্বল।’

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গাজায় আরও ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad