গাজায় প্রথম ধাপে মুক্ত সাত জিম্মি, তেল আবিবে জনতার উল্লাস

গাজায় প্রথম ধাপে মুক্ত সাত জিম্মি, তেল আবিবে জনতার উল্লাস
গাজায় জিম্মি মুক্তির খবরে তেল আবিবে উল্লসিত জনতা। ছবি: রয়টার্স
Advertisement
Advertisement

গাজায় ৪৮ জন ইসরায়েলি জিম্মি হস্তান্তর শুরু হয়েছে, যাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত বলে মনে করা হচ্ছে। জিম্মিদের রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে, তাদের ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কাছে তুলে দেওয়া হবে।

বিবিসি জানিয়েছে, প্রথম সাতজন জিম্মিকে রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী– আইডিএফ নিশ্চিত করেছে।

সাতজন জিম্মিকে হস্তান্তরের কথা নিশ্চিত করেছে হামাসও। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যে সাত জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন– যমজ সন্তান গালি এবং জিভ বারম্যান, মাতান অ্যাংরেস্ট, অ্যালোন ওহেল, ওমরি মিরান, এইতান মোর ও গাই গিলবোয়া-দালাল।

ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস মুক্তিপ্রাপ্তদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এ তালিকার সকলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার পর থেকে গাজায় আটক ছিলেন।

এদিকে, ইসরায়েলের তেল আবিবের হোস্টেজ স্কয়ারে মুক্তির খবর শোনামাত্র অপেক্ষমান হাজার হাজার জনতা উল্লাসে ফেটে পড়েন।  জনতার একজন বলেছেন, ‘আজকে সব ইসরায়েলি একত্রিত।’  জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েল আড়াইশ’ জন ফিলিস্তিনি বন্দী এবং এক হাজার ৭০০ এর বেশি আটককে মুক্তি দেবে।

আরও পড়ুন

গাজায় রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তর করা হয় জিম্মিদের। ছবি: রয়টার্স

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গাজা যুদ্ধের সমাপ্তি হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্য এখন ‘স্বাভাবিক অবস্থায়’ ফিরতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় বিমানে  সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। গাজা উপত্যকায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধকালীন বিরতি টানা তৃতীয় দিনের মতো বহাল থাকার  আন্তর্জাতিক কূটনীতির এক সংবেদনশীল মুহূর্তে এমন মন্তব্য এলো।

ট্রাম্প সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হয়েছে, আপনারা বিষয়টি বুঝতেই পারছেন।’  মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি সবকিছু স্বাভাবিক হতে চলেছে।’

মধ্যপ্রাচ্য সফরে গিয়ে সোমবার প্রথমে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প। তারপর মিশরে ‘শান্তি সম্মেলনের’ উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।

গাজায় সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে এবং অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজা শহরের দিকে উত্তরে ফেরা শুরু করেছেন বহু বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি। তারা আশাবাদী, এই বিরতি স্থায়ী শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

ইসরায়েলও হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের ধাপে ধাপে মুক্তির অপেক্ষায় আছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দিতে প্রস্তুত হচ্ছে। বন্দি বিনিময় নিয়ে এই সমঝোতাকে অনেক বিশ্লেষক সম্ভাব্য সমাধান প্রক্রিয়ার সূচনা হিসেবে দেখছেন।

এদিকে মিশর, কাতারসহ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের জন্য নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা ত্বরান্বিত করছে। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad