ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন, আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন।
পাশাপাশি সাম্প্রতিক ক্যামব্রিজ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনাগুলোকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর উত্তরার গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘ক্যামব্রিজ প্রিন্সিপালস মিট ২০২৬’-এ শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের আয়োজনে এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১৫০ জনের বেশি প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির গ্লোবাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর রড স্মিথ এবং দক্ষিণ এশিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর অরুণ রাজামানি।
স্বাগত বক্তব্যে এসটিএস গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মানাস সিং বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বমানের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করতে স্থানীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে প্রযুক্তি ও এআইয়ের সমন্বয় ঘটাতে হবে। শিক্ষক প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ বাড়লে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার মান উন্নত হবে।
মূল অধিবেশনে জানানো হয়, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর ক্যামব্রিজের ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ’ বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইসিই অ্যাওয়ার্ডের স্বীকৃতি পেয়েছে। আলোচনায় উঠে আসে, বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ ক্যামব্রিজ শিক্ষাক্রম অনুসরণকারী স্কুলের সংখ্যা এবং প্রাইমারি চেকপয়েন্ট পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সাফল্যের হার বাড়ছে।
অনুষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাক্রম অনুসরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং নকল উপকরণ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখা স্কুলগুলোর প্রশংসা করা হয়।
প্রকৌশল ও মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় শিক্ষাক্রমের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা যাতে সমানভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে ক্যামব্রিজ।
ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার কারণে স্থানীয় সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বক্তারা ‘গ্লোবালি মাইন্ডেড, লোকালি রুটেড’ শিক্ষাদর্শনের ওপর জোর দেন। অংশগ্রহণকারী শিক্ষাবিদরা বলেন, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও মূল্যবোধনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের এই আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগ দক্ষতা, পাশাপাশি দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষকদের আধুনিক শিক্ষণ কৌশল ও এআই সম্পর্কে ধারণা থাকাও জরুরি। এই ঘাটতি পূরণে ক্যামব্রিজ প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট কোয়ালিফিকেশনস (পিডিকিউ) কর্মসূচি ভূমিকা রাখতে পারে।
ক্যামব্রিজ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের সাম্প্রতিক অভিযোগ নিয়ে আয়েশা শরমিন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোথায় ও কীভাবে তথ্য ফাঁস হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।


