গবেষণায় বরাদ্দ জিডিপির দশমিক ৩ শতাংশ: শিক্ষা উপদেষ্টা

গবেষণায় বরাদ্দ জিডিপির দশমিক ৩ শতাংশ: শিক্ষা উপদেষ্টা
Advertisement
Advertisement

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে জিডিপির মাত্র প্রায় দশমিক ৩ শতাংশ গবেষণায় বিনিয়োগ করছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মানদণ্ডের তুলনায় অত্যন্ত কম। তিনি বলেন, ‘এটি শুধু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় কম নয়, বরং অনেক স্বল্পোন্নত দেশের চেয়েও কম। এই বাস্তবতা আমাদের গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে বিজ্ঞান শিক্ষায় ভর্তি ও গবেষণার গতি উভয়ই উদ্বেগজনকভাবে কমছে। কোনো জাতির জন্য এটি মোটেই সুখকর নয়।’

সোমবার রাজধানীর অর্থ বিভাগের সভা কক্ষে আয়োজিত ‘জাতীয় ও বৈশ্বিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে গবেষণা ও উন্নয়ন শক্তিশালীকরণ: সাশ্রয়ী ও উচ্চ প্রযুক্তিগত সমাধানের ব্যবহার’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়।

এ সময় দেশের টেকসই উন্নয়ন, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠন এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞান ও গবেষণাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা।

দেশের অবকাঠামোতে অতিরিক্ত জোর দিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও গবেষক তৈরিতে তুলনামূলক কম বিনিয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘অবকাঠামো খাতে সময়মতো অর্থ ব্যয়ের সক্ষমতা না থাকায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত যাচ্ছে, যা পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।’

আরও পড়ুন

সি আর আবরার আরও বলেন, ‘গবেষণার ফলাফল শুধু প্রকাশনায় সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, সেগুলো বাস্তবসম্মত সমাধানে রূপ দিতে হবে। নলেজ-বেইজড ইকোনমি গড়ে তোলার এখনই সময়।’

প্রবাসী ও আন্তর্জাতিকভাবে কর্মরত বাংলাদেশি গবেষকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, জ্ঞান বিনিময় এবং দেশে ফিরে বা দূরবর্তীভাবে গবেষণায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্বারোপ শিক্ষা উপদেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি শক্তিশালী রিসার্চ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে-যেখানে বেসিক ও অ্যাপ্লাইড সায়েন্সের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকবে। এর জন্য সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রাইভেট সেক্টরের মধ্যে সমন্বিত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ জরুরি।’

কর্মশালার উদ্বোধন করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন, কি-নোট প্রেজেন্টেশন করেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের ইমেরিটাস সায়েন্টিস্ট ফিরদৌসী কাদেরী, বিজ্ঞান গবেষক আবেদ চৌধুরী এবং বিজ্ঞানী মোবারক আহমদ খান।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad