তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত জাতীয় গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশন সংক্রান্ত খসড়া অধ্যাদেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ ও ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি)।
গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সংগঠন দুটির মতে, দোরগোড়ায় যখন জাতীয় নির্বাচন, তখন অংশীজনদের সাথে পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এমন সুদূরপ্রসারী ও সংবেদনশীল আইন প্রণয়ন করা অনভিপ্রেত ও অযৌক্তিক।
রোববার এক বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদ জানায়, এই খসড়া অধ্যাদেশগুলোর কাঠামোতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষার চেয়ে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কা বেশি ফুটে উঠেছে। সম্পাদক পরিষদ মনে করে, মতামত প্রদানের জন্য নামমাত্র সময় দিয়ে আইন পাসের এই প্রক্রিয়াটি অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। তাই বিষয়টি নির্বাচিত সংসদ গঠনের পর বিস্তারিত পর্যালোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা-ই সমীচীন।
অন্যদিকে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) বিবৃতিতে খসড়া অধ্যাদেশের ‘জনস্বার্থবিরোধী’, ‘বিদ্বেষমূলক’ ও ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার হুমকি’-র মতো অস্পষ্ট শব্দের ব্যবহারের সমালোচনা করা হয়। বিজেসির আশঙ্কা, এমন অস্পষ্ট সংজ্ঞার অপপ্রয়োগের মাধ্যমে যেকোনো সমালোচনামূলক সংবাদকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
এছাড়া ‘জাতীয় ইস্যু’ ও ‘জনস্বার্থে সরকারি নির্দেশনা’ মানতে ব্যর্থ হলে জরিমানার যে বিধান রাখা হয়েছে, তাকে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে দেখছে সংগঠনটি ।
বিজেসি’র বিবৃতিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত খসড়ায় সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা বা পেশাগত অধিকার নিশ্চিতের বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। আধুনিক ডিজিটাল যুগের উপযোগী নেট নিউট্রালিটি বা সাইবার নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোও এতে উপেক্ষিত হয়েছে।


