গণভোট অধ্যাদেশের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই গণভোট বাতিল হলে নির্বাচিত সংসদ আইনগত হুমকির মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
সোমবার হাইকোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে জামায়াতের আইনজীবীদের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
শিশির মনির অভিযোগ করেন, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, দুদক সংস্কার অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ বিশের অধিক অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন চায় না সরকার। অথচ এই অধ্যাদেশগুলো দেশের মানুষকে সংস্কারের আশা জাগিয়েছিল। তিনি সরকারের প্রতি এই অধ্যাদেশগুলো বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে ৩০ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল ঐক্যমত হয়েছিল। সেসব বিষয়েও বিএনপি মানতে টালবাহানা করছে।
স্বয়ংক্রিয়ভাবে গণভোট বাতিলের কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করে শিশির মনির বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল বা কার্যকারিতা হারালে নির্বাচনী তফসিলও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর হয়ে যাবে।
আইনজীবী শিশির মনির বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ৬ নম্বর ধারা এবং নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল-সবগুলোই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি এগুলোকে ‘অবিচ্ছেদ্য যমজ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একটি থেকে আরেকটিকে আলাদা করার সুযোগ নেই। তার মতে, গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল করা হলে তা সরাসরি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও এর প্রস্তাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, গণভোট অধ্যাদেশের তফসিলে জাতীয় ঐকমত্যের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই অধ্যাদেশ বাতিল হলে জুলাই সনদ এবং সামগ্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাই যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে গণভোট অধ্যাদেশ, বাস্তবায়ন আদেশ, জুলাই সনদ ও নির্বাচনী তফসিল-সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। অন্যথায় দেশে আইনি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করেন।
তিনি সরকারকে অযৌক্তিক ও অসাংবিধানিক সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদে কোনো অসাংবিধানিক আইন পাস হলে তা উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হবে।


