জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, বৈষম্যহীনতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কার নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম আবার রাজপথে নামতে পারে।’ নেপালের সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল এবং বিশ্বজুড়ে তরুণদের আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার বিকালে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে ‘এনসিপির যাত্রা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, নেপালের সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল থেকে বোঝা যাচ্ছে, সেখানে আন্দোলনকারী শক্তিগুলো এগিয়ে রয়েছে এবং বড় ধরনের সাফল্য পেতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক সক্রিয়তা বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও তরুণদের সক্রিয়তার একটি বৈশ্বিক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিবাদী অবস্থা ছিল। নেপালও দীর্ঘ সময় ধরে অস্থিরতা ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গেছে। বাংলাদেশেও সামনে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, দেশের রাজনীতি কোন পথে যাবে তা অনেকটাই নির্ভর করবে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, বৈষম্যহীনতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের ওপর। তিনি বলেন, যদি এসব নিশ্চিত না হয়, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে তরুণরা বারবার রাস্তায় নামবে।
তিনি মনে করেন, নতুন সংসদে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। তবে রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হলে নতুন করে আন্দোলনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই সংসদে একটি স্থিতিশীলতা তৈরি হোক। কিন্তু সেই জায়গা যদি সংকুচিত করা হয়, তাহলে আবার রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে উঠবে। সেখান থেকে নতুন দল ও নতুন রাজনীতির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।’
অনুষ্ঠানে ‘এনসিপির যাত্রা’ বই সম্পর্কেও কথা বলেন তিনি। গত বছরের গণঅভ্যুত্থান ও ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কীভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জন্ম হয়েছে, বইটিতে তার ধারাবাহিক বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, নতুন ধরনের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে দলটি যাত্রা শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘এনসিপি বাংলাদেশের জন্য নতুন রাজনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে এনসিপি ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ছয়টি আসনে জয় পেয়েছে। তার ভাষায়, মাত্র ৩০টি আসনে নির্বাচন করে ৩ শতাংশ ভোট পাওয়া কম কিছু নয়। ভোটের অনুপাতে আমরা তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছি—এটাই আমাদের বড় সফলতা।’
ইটির লেখক মাহাবুব আলম বলেন, ‘একটি গণঅভ্যুত্থান থেকে রাজনৈতিক দলে রূপান্তরের প্রক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।’
এনসিপির যাত্রা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আদর্শের স্বত্বাধিকারী মাহবুব রহমান, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলাম শাহিনসহ দলের নেতাকর্মীরা।
‘এক দলের জায়গায় আরেক দল বসেছে’
পরে শুক্রবার রাজধানী উত্তরার ফ্রেন্ডস ক্লাব মাঠে এনসিপির ঢাকা সাংগঠনিক বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন নাহিদ ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু আগে জয় বাংলা বলে বক্তব্য শেষ করতেন। এখন জিন্দাবাদ বলে বক্তব্য শেষ করছেন। গোটা দেশ এভাবে চলছে। শুধু জয় বাংলার পরিবর্তে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ হয়েছে। শুধু একটা দলের জায়গা আরেকটি দল বসেছে। মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবাই চুপ থাকলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি চুপ করে থাকবে না। মানুষের অধিকার নিশ্চিতে সবসময় সরব থাকবে।’


