ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলে ফিফা বিশ্বকাপের ফ্রান্স-নরওয়ে ম্যাচ দেখতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী।
শুক্রবার দিনগত রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তারা।
সাবেক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শহীদুল্লাহ হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক মো. সাজু মিয়া ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন তাদের ঘিরে ধরে ‘মব’ তৈরি করেন এবং সঙ্গে একজন নারী থাকায় হল থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।
উল্লেখ্য, সাজু মিয়া ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে জয়ী হন।
অভিযোগের বিষয়ে সাজু দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট নারীকে তিনি কোনো ধরনের হেনস্তা করেননি। তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, রাত ১২টার সময় একটা আবাসিক হলের ভেতর মেয়ে আসবে, এই জিনিসটা তো একদম সাধারণ সেন্সের মানুষও ভালোভাবে নেবে না। তাই তাদের বের হয়ে যেতে অনুরোধ করা হয়।
শনিবার ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ – ২’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া এক পোস্টে ভুক্তভোগী মোহতাসিন বিল্লাহ ইমন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী ও এক দম্পতিসহ মোট ছয়জন শহীদুল্লাহ হলে খেলা দেখতে যান তারা। প্রবেশের সময় হল গেটের রেজিস্টার খাতায় নিজেদের নাম লিখে হলে ঢোকেন।
পরে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন।
ইমন জানান, তাদের উদ্দেশে বলা হয়, আপনারা কোন লজিকে একটা মেয়ে নিয়ে বয়েজ হলে খেলা দেখতে আসছেন? কিছুক্ষণ পর হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক সাজু মিয়া ও কয়েকজন এসে তাদের ঘিরে ধরেন।
ইমনের দাবি, সাজু মিয়া তাদের বলেন, এখানে মেয়ে নিয়ে থাকা যাবে না। আপনারা বের হয়ে যান।
ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা সিনিয়রদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলেও সেই সুযোগ পাননি। পরে হলের বাইরে অপেক্ষা করলে বিশ্বকাপ খেলা আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানান, অভিযুক্তরা ওই আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
ইমন আরও জানান, ঘটনার পর তাদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয় এবং সেগুলো হলের গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে সাজু মিয়া বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নারীকে তিনি কোনো ধরনের হেনস্তা করেননি।
তার দাবি, রাতের সময় আবাসিক হলে নারী উপস্থিতি নিয়ে সাধারণভাবে আপত্তি জানানো হয় এবং স্টাফদের মাধ্যমে প্রথমে অনুরোধ করা হয়, পরে তিনি নিজেও একই অনুরোধ জানান।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপ ম্যাচ চলাকালে হলে নারী প্রবেশ বা দর্শনের বিষয়ে প্রশাসনের কোনো লিখিত নির্দেশনা ছিল না।


