বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য। তবে গত ১৬-১৭ বছর ধরে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করে ভিন্নমতের কণ্ঠস্বর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যারা ফ্যাসিবাদের পক্ষে কাজ করেছে এবং গুম-খুনের সমর্থন জানিয়েছে, তারা গণমাধ্যমের পরিচয়ে টিকে থাকার অধিকার রাখে না।’
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে দৈনিক বার্তার মাল্টিমিডিয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘এমন একটি দায়িত্বশীল পত্রিকার গুরুত্ব সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভাজনের সময়ে অত্যন্ত অপরিহার্য। গণমাধ্যমের কণ্ঠস্বর ক্ষীণ হলেও সত্য বলার স্পেস থাকা উচিত।’
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে প্রতিটি গুম-খুন আড়াল করেছে এবং ভিন্নমতের মানুষকে ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে দমন করেছে।
তিনি দাবি করেন, ‘শেখ হাসিনা আন্দোলন দমন করতে হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এমনকি তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের হত্যা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।’
বিএনপির এই নেতা ইতিহাসের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী ইতালি বা নাৎসি জার্মানিতে স্বৈরাচারের পক্ষে কাজ করা মিডিয়া গুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর টিকে থাকতে পারেনি। তাই বাংলাদেশের গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির সাফাই গাওয়া মিডিয়া গুলোও অচিরেই অস্তিত্বহীন হয়ে যাবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের ব্যালট পেপার নীলক্ষেতে ছাপানো হচ্ছে—এমন সন্দেহ অমূলক নয়। অথচ চিফ রিটার্নিং অফিসার আওয়ামী লীগের ভাষায় কথা বলছেন। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাহানিকর।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো সত্য তুলে ধরা, শাসকের বন্দনা করা নয়। বিবেকবান সাংবাদিক জাতির বিবেকের প্রতিনিধিত্ব করেন।’
অনুষ্ঠানে তিনি দৈনিক বার্তাকে ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে গড়ে তুলতে সম্পাদক মাহমুদ আনোয়ারসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি শুভকামনা জানান।


