গণতন্ত্র বিশ্বাস করলে জনপ্রতিনিধির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান।
তিনি বলেন, ‘যারা দেশ পরিচালনা করছেন, যারা রাজনীতিক হিসেবে কাজ করছেন, যারা জনগণের প্রতিনিধি হয়ে এসেছেন, তাদের অবশ্যই গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করতে হবে এবং জনগণের প্রতিনিধি হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন তিনি। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
গত ১৫ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, ‘উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট–যদি শিক্ষা ধ্বংস করা যায়, তবে জাতিকেও ধ্বংস করা যাবে। কারণ, তখন মানুষ যুক্তি দিয়ে কথা বলতে পারবে না, ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য বুঝবে না, প্রতিবাদও করতে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ধ্বংসস্তুপ থেকে বের হয়ে আসতে আমাদের কতটা সময় লাগবে জানি না, তবে আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষাব্যবস্থা সঠিক করতে একমাত্র শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। সরকার বা রাজনীতিকরা যা-ই করুক না কেন, যদি শিক্ষকরা ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নেন যে তারা দেশের মানুষকে শিক্ষিত করবেন, তবে তা সম্ভব।’
শিক্ষকদের ওপরে লাঠিচার্জের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘হৃদয়বিদারক ঘটনা, যখন পুলিশের হাতে শিক্ষকদের লাঠিচার্জ করা হয় কিংবা টিয়ার গ্যাস মেরে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। এটি আরও কলঙ্কজনক যে সরকার শিক্ষকদের জন্য ৫০০ টাকা বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণ করেছে। কীভাবে একজন শিক্ষক এই ভাতা দিয়ে বাড়ি ভাড়া করতে পারবেন? আজকের বাংলাদেশের অর্থনীতি কি তা সহ্য করতে পারে?’
মঈন খান আরও বলেন, ‘এতো সংস্কার কমিটি হলো, তবে শিক্ষাবিষয়ক সংস্কার কমিটি কেন গঠন করা হলো না? যদি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তবে দেশ উন্নতি করতে পারবে না।’


