কুষ্টিয়ার খোকসায় কবরস্থানের গাছ বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যেও সংঘর্ষ হয়েছে। এসব ঘটনায় কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়ার খোকসার গোপগ্রাম ইউনিয়নের সাতপাখিয়া কবরস্থানের গাছ বিক্রি করে মাটি ভরাট করাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে হামলা পাল্টা হামলা হয়। এ হামলায় দুই গ্রামের অন্তত ২০ জন আহত হয়। হামলাকারীরা কবরস্থানের দেয়ালে লেখা বর্তমান কমিটি ও স্থপতিদের নাম লাল কালি দিয়ে মুছে দেয়।
শতবর্ষী সাতপাখিয়া কবরস্থানে কোটি টাকা মূল্যের কয়েক হাজার মেহগনি গাছ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃত্ব নিয়ে সাতপাখিয়া ও বরইচাড়া গ্রামের মাতব্বরদের বিরোধ রয়েছে। সাতপাখিয়া গ্রামবাসীর নিয়ন্ত্রণে চলে বর্তমান কমিটি। বরইচাড়া গ্রামের মাতব্বরদের রয়েছে আর একটি কমিটি।
সাতপাখিয়া গ্রামবাসীদের বর্তমান কমিটি এখান থেকে ১০টি মেহগনি গাছ বিক্রি করে কবরস্থানের মাটি ভরাট শুরু করে। শুক্রবার সকালে বরইচাড়া গ্রামের কয়েকশ লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। দুই গ্রামবাসীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া বাড়তে থাকলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে শুক্রবার সকালে প্রায় একই সময়ে উপজেলার বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের বনগ্রামে দুই যুবকের মধ্যে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বিএনপির স্থানীয় দুটি গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের আহতরা সবাই নিজেদের বিএনপি কর্মী বলে দাবি করেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতা স্কুল শিক্ষক সামছুজ্জামান তুহিনের দলীয় পদ নেই। তার প্রতিপক্ষ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আবু হেনা মোস্তফা সালাম লুলু। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র বৃহস্পতিবার বিকালে শিমুল বিশ্বাসের ছেলে রনি ও নবীনের ছেলে শিপলুর মধ্যে বিরোধ হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলা শুরু হয়। এ সময় দুই পক্ষের ২০ জন আহত হয়। এ ছাড়া দুই পক্ষ ৬টি বাড়ি ভাংচুর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। দুটি সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ২৪ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে কবর স্থান কমিটি ও বিএনপির নেতারা।
খোকসা থানার ওসি তদন্ত মোশারফ হোসেন বলেন, দুই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। কোন অভিযোগ পাওযা যায়নি। কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


