খাদ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে নতুন খাদ্য গুদাম ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ’ প্রকল্পে প্লাস্টিকের ডানেজ (প্যালেট) ক্রয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ফেয়ার ট্রেড করপোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্ত্বাধিকারী কাজী আলাউদ্দিন স্বাক্ষরিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, যখনই কম সংখ্যক প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশ নেয়, তখন নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় টেন্ডার আহ্বানের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের যোগসাজসে একই শর্ত রেখে বারবার টেন্ডার আহ্বান করা হচ্ছে। এতে করে প্রতিবারই সীমিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না।
এ অবস্থায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক বেশি দামে ডানেজের দরপত্র জমা দিচ্ছে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, এসব ডানেজ ব্যবহার করা হবে নতুন নির্মিত খাদ্য গুদামে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের কাজে। তবে গুদাম নির্মাণ শেষ হতে আরও প্রায় দুই বছর সময় লাগবে। এমন পরিস্থিতিতেও বারবার তড়িঘড়ি করে টেন্ডার আহ্বান করাকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফেয়ার ট্রেড করপোরেশনের দাবি, টেন্ডারের শর্তে শুধুমাত্র ‘উৎপাদনকারী’ প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিয়ে ‘সরবরাহকারী’ প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যা সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর ২০২৫) লঙ্ঘনের শামিল। একই টেন্ডার তিনবার আহ্বান করা হলেও শর্তে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি, ফলে প্রতিযোগিতা আরও সংকুচিত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ম্যানুফ্যাকচারারের পাশাপাশি সাপ্লায়ারদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলে অধিক সংখ্যক প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেবে এবং প্রতিযোগিতামূলক দামে উন্নতমানের ডানেজ ক্রয় করা সম্ভব হবে।
গত ২৯ মার্চ প্রতিমন্ত্রীর কাছে দেয়া চিঠিতে এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করা হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
কাজী আলাউদ্দিন বলেন, এ ধরনের অযাচিত শর্ত বাদ দিলে অনেক প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে পারবে। তারপরও যেই কাজ পাবে তাতে কোনো অভিযোগ বা প্রশ্ন থাকবে না।
অতিরিক্ত সচিব ও নতুন খাদ্য গুদাম ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক সোহেলুর রহমান খান বলেন, ‘এখানে কোনো অনিয়ম দুর্নীতির সুযোগ নেই। কোনো কোম্পানি যখন কাজের শর্ত মানতে ব্যর্থ হয় বা অন্যদের কাছে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারে তখন তারা এ ধরনের অভিযোগ করেন। এ অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন।’


