ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়িতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে যে, পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার পরেও পরিস্থিতি শান্ত না করে উসকানি দিয়ে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি রহমান বলেন, ‘এখানে পাহাড়ি জনগণের স্বার্থ রক্ষা বা তাদের নিরাপত্তার কোনো প্রশ্ন ছিল না, বরং মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রকে অস্থির করার চেষ্টা করা হয়েছে। এটি পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বহুদিনের চলমান ভূরাজনৈতিক কূটচালের অংশ হিসেবে একটি সুযোগ সন্ধান করার প্রচেষ্টা।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পরিষ্কারভাবে ঘোষণা করে যে, বাংলাদেশের অখণ্ডতার প্রশ্নে কোনো চক্রান্ত করা হলে তা প্রতিহত করা হবে।’
‘বাংলাদেশ একটি আধুনিক সীমানাভিত্তিক জাতি রাষ্ট্র, যেখানে ভাষা, ধর্ম বা নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ে কেউ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়। নাগরিক অধিকারে সকলেই সমান। খাগড়াছড়িতে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনা অবশ্যই বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত, এবং প্রশাসন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেছে। তবে, এর পেছনে রাজপথে আন্দোলন এবং হিংসাত্মক বাক্যবাণে উত্তেজনা সৃষ্টি করার কোনো কারণ নেই,’ যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘তবুও, যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে, নাগরিক প্রাণহানি ঘটেছে, এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসার ও সদস্যরা আহত হয়েছেন। পুরো পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায়, এর পেছনে ভূরাজনীতির নোংরা কৌশল কাজ করছে। আমরা আশা করি, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী তাদের দক্ষতার সাথে এই কূটকৌশলকে প্রতিহত করবে।’
আতাউর রহমান বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা মোতায়েন নিয়ে কিছু মানুষ আপত্তি তোলেন, কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সন্দেহ রয়েছে। সেনা মোতায়েন থাকার পরও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না এবং একাধিকবার স্বশস্ত্র অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সেনা প্রত্যাহারের দাবি সরল নয়। এটি মিথ্যা বার্তা ছড়িয়ে দেয় যে, সেনাবাহিনী নিপীড়নমূলক অবস্থানে রয়েছে, যা আদতে ভুল।’
তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী সেখানে নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য অবস্থান করছে, এবং আমরা সতর্ক থাকতে চাই যাতে কেউ দেশের সার্বভৌমত্বের বিপক্ষে অবস্থান না নেয়।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অস্থিরতায় নিহতদের পরিবার ও আহতদের প্রতি সহমর্মিতা এবং সমবেদনা জানিয়ে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। তারা আহত সেনা কর্মকর্তাদের সাহস, ধৈর্য ও দক্ষতার প্রশংসা করেছেন।


