খাগড়াছড়িতে মারমা কিশোরীকে ধর্ষণ ও পরবর্তী সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন।
মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা।
এতে বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, এ এল আরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, বাংলাদেশ জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ডাকসুর সাবেক জিএস মুশতাক, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী খায়রুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীল ও বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিলের ঢাকা মহানগর সভাপতি নুমংপ্রু মারমা বক্তব্য দেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনায় সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। তারা দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা, নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা এবং পাহাড়ে দীর্ঘদিনের সামরিকীকরণ নীতি পর্যালোচনার দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রধান উপদেষ্টাকে জরুরি উদ্যোগ নিতে হবে। তারা চুক্তি বাস্তবায়নকে একমাত্র স্থায়ী সমাধান হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে তা কার্যকরের আহ্বান জানান।
সমাবেশে সংহতি জানান সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।
খাগড়াছড়িতে একজন মারমা কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগে ৩ জন নিহত ও অনেকে আহত হয়েছেন।
উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন এবং পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রধান উপদেষ্টার দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এ সময় তারা আট দাবি জানায়। দাবিগুলো হলো-১. খাগড়াছড়িতে মারমা কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; এবং নির্যাতিত কিশোরী এবং তার পরিবারের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
২. সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনায় সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং মদদের অভিযোগের বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।
৩. নিহত ও আহতদের পরিবারকে সুরক্ষা, যথার্থ ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. পাহাড়ে দীর্ঘদিনের সামরিকীকরণ নীতি পর্যালোচনা করে শান্তিপূর্ণ, রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগোতে হবে।
৫. পাহাড়ে অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভুক্তভোগীদের কণ্ঠস্বর দমন না হয় এবং জনগণ সত্য জানতে পারে।
৬. খাগড়াছড়ি ও গুইমারার ঘটনাবলির নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি যুক্ত করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
৭. হত্যার শিকার হওয়া প্রতিটি পরিবারকে কমপক্ষে ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
৮. সর্বোপরি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দ্রুত ও যথাযথ বাস্তবায়ন করে পার্বত্য সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।


