সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আবারও ফেরত চেয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের দুজনকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।
বুধবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে এ দাবি তোলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গেও বৈঠক করেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর এটি কোনো বাংলাদেশি মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর।
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধে ২০২৫ সালের নভেম্বরে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে বাংলাদেশ। এরপরই তাকে প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে অনুরোধ জানানো হয়। ঢাকা বলছে, ২০১৩ সালের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যর্পণ বাধ্যতামূলক। তবে ভারত অনুরোধ পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান জানায়নি।
সম্পর্ক পুনর্গঠনে জোর
বুধবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে খলিলুর রহমান ও এস জয়শঙ্করের বৈঠকে দুই দেশই সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে আস্থা পুনর্গঠন ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়।
জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।
খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার “বাংলাদেশ ফার্স্ট” নীতিতে, পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে।
তিনি ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করায় ভারতকে ধন্যবাদ জানান। উভয় দেশ একমত হয়েছে, প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।
ভারত জানায়, বাংলাদেশিদের জন্য—বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা—আগামী সপ্তাহগুলোতে সহজ করা হবে।
নিরাপত্তা সহযোগিতা
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন খলিলুর রহমান। বৈঠকে নিরাপত্তা সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসে। দুই দেশই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়।
জ্বালানি খাতে সহযোগিতা
পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান এবং জ্বালানি ও সার সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ করেন। ভারত এই অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেয়।
সামনে যা
বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যর্পণ ইস্যু এখনো অমীমাংসিত থাকলেও, এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


