দেশের ক্যানসার মোকাবিলায় প্রতিরোধ, স্ক্রিনিং, নিবন্ধন এবং প্রশমন সেবা অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মানুষের অভিজ্ঞতা এবং প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যনীতি সাজানো জরুরি বলে মনে করেন তারা।
বুধবার বিকালে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নগর হাসপাতালে বিশ্ব ক্যানসার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চিকিৎসাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে কিন্তু প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণে জোর দেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, ‘আমরা ক্যানসারকে একটা ডিজিজ হিসেবে আর দেখতে রাজি না। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে উঠবে ক্যানসার আক্রান্ত যে সেই মানুষটা শুধু না সমস্ত মানুষকে মাঝখানে রেখে। পিপলকে সেন্টারে রেখে তারপরে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাটাকে সাজাইতে হবে।’
তিনি জানান, গ্লোবোক্যান ২০২২ এর রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবছর নতুন করে ১ লক্ষ ৬৭ হাজার মানুষ ক্যানসার আক্রান্ত হয় এবং ১ লক্ষ ১০ হাজার মারা যায়। কিন্তু দেশে জাতীয় ক্যানসার নিবন্ধন ব্যবস্থা না থাকায় প্রকৃত পরিসংখ্যান জানা যায় না।
রাসকিন বলেন, ‘আমাদের তো স্ট্যাটিস্টিক্স নাই। আমাদের আশেপাশের দেশে যে ক্যানসার রেজিস্ট্রি আছে সেই রেজিস্ট্রির ফাইন্ডিংটাকে বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে পপুলেশন ডিনামিক্স ব্যবহার করে তারা একটা এস্টিমেট দেয়। আমাদের ক্যানসার জাতীয় ক্যানসার নিবন্ধন কর দরকার হাসপাতাল ভিত্তিক লাগবে জনগোষ্ঠী-ভিত্তিক লাগবে।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ক্যানসারের কথা উঠলে আমাদের সরকারি বাজেট বলি, বরাদ্দ বলি, পরিকল্পনা বলি এমনকি ডাক্তারদের চিন্তাচেতনা বলি বা মানুষেরও চিন্তা চেতনা হল ক্যানসার চিকিৎসা। চিকিৎসা অনেক পরে। তার আগেই তো ক্যান্সারটা একটা রিস্ক ফ্যাক্টরের মাধ্যমে একটা মানুষকে আক্রান্ত করে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মনজুর কাদির আহমেদ বলেন, ‘আমাদের দেশে ক্যানসার বা কিডনির অসুখ যেগুলা মরণব্যাধি হয়ে গেলে পরিবারকে শেষ করে ফেলে। প্রথমে পরিবারকে নিঃশেষ করে তারপরে যে মানুষটা রয়েছে সেও কবরে চলে যায়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন যখন এই প্রতিরোধ স্ক্রিনিংয়ের কথাগুলো বলতে যাই তখন অনেকে এই কাজগুলাকে নিয়ে একটু হাসি-তামাশার মতো বা কিছুটা অন্যভাবে দেখে। কিন্তু আমাদের দেশের আর্থসামাজিক অবস্থায় আমরা এত ব্যয়বহুল চিকিৎসা করতে পারব না।’ ক্যানসার প্রতিরোধে স্ক্রিনিংয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের আব্দুল হামিদ বলেন, ক্যানসারের রিস্ক ফ্যাক্টর যেহেতু লাইফস্টাইল ফ্যাক্টর এখানে জড়িত। এই লাইফস্টাইলের কিছু জিনিস আমাদের ইন্টারনাল আমরা এড়াতে পারি। কিন্তু কিছু জিনিস হচ্ছে রাষ্ট্রের বা সমাজের। তার ভেতরে প্রধানতম হচ্ছে যে ভেজাল খাবার, কন্টামিনেটেড খাবার, কেমিকাল।’ তিনি এসব বর্জনের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন যে শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বাস্থ্য শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এই সমস্যা মোকাবিলা কার্যকর হতে পারে বলে মনে করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশে আটটি বিভাগে স্বয়ংসম্পূর্ণ ক্যানসার সেন্টার, প্রতিটি মেডিকেল কলেজে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার বিভাগ এবং জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে স্ক্রিনিং ও শনাক্তকরণ সুবিধা প্রয়োজন।


