দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় উন্মুল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার একটি একতলা ভবনে বিস্ফোরণে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে এই বিস্ফোরণ ঘটে। ছুটির দিনের কারণে বিস্ফোরণের সময় মাদ্রাসাটিতে কোনো শিক্ষার্থী ছিল না।
বিস্ফোরণে মাদ্রাসা ভবনের আসবাবপত্র, জানালার কাঁচ ভেঙে যায় এবং দেয়ালের একটি অংশ উড়ে যায়। এতে আশপাশে কাঁচ ও দেয়ালের টুকরো ছড়িয়ে পড়ে এবং পাশের মোহাম্মদ হোসেনের মালিকানাধীন ভবনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আহতরা হলেন মাদ্রাসাশিক্ষক আল আমিন (৩২), তার স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৮), দুই ছেলে উমায়েত (১০) ও আব্দুল্লাহ (৭) এবং পাশের একটি সিএনজি গ্যারেজের শ্রমিক জাকির হোসেন (৪৫)।
ভবনের মালিক পারভিন বেগম জানান, ২০২২ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। পরে মুফতি হারুন নামে এক ব্যক্তি মাদ্রাসা পরিচালনার উদ্দেশে ভবনটি ভাড়া নেন। পরে তিনি তার শ্যালক আল আমিনকে মাদ্রাসাটি পরিচালনার দায়িত্ব দেন। আল আমিন এবং তার স্ত্রী আছিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। মুফতি হারুন মাঝে মধ্যে সেখানে আসতেন।
ভবনটির তিনটি কক্ষে মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালিত হত। পাশের একটি কক্ষে স্ত্রী সন্তানসহ তিন বছর ধরে ওই মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিন বাস করতেন।
বিস্ফোরণের খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশ বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণের পর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তল্লাশি চালিয়ে তারা ভবনের ভেতর থেকে বিস্ফোরক পদার্থ এবং বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করেছে। বিস্ফোরকের সঠিক ধরন এবং বিস্ফোরণের কারণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ‘প্রথমে গ্যাস বিস্ফোরণের কথা শোনা গেলেও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা গেছে, সেখানে গ্যাস সিলিন্ডার অক্ষত রয়েছে। এটি গ্যাস বিস্ফোরণ নয়।’
তিনি আরও জানান, কেরানীগঞ্জ সার্কেল ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট যৌথভাবে ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


