ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে ইংল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে ডালাসে অনুষ্ঠিত ‘এল’ গ্রুপের এই প্রথম ম্যাচে হ্যারি কেইনের জোড়া গোলের ওপর ভর করে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে টমাস টুখেলের শিষ্যরা। ইংল্যান্ডের হয়ে অন্য দুটি গোল করেছেন জুড বেলিংহাম এবং মার্কাস রাশফোর্ড।
ম্যাচের শুরু থেকে দুই দল বেশ গতিময় ফুটবল খেলতে থাকে। নবম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর ননি মাদুয়েকেকে লুকা মদরিচ ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। কেইনের নেওয়া প্রথম শটটি ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক দমিনিক লিভাকোভিচ চমৎকারভাবে ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, শট নেওয়ার আগে গোলরক্ষক গোললাইন ছেড়ে সামনে এগিয়ে এসেছিলেন। ফলে পুনরায় পেনাল্টি নেওয়ার সুযোগ পান কেন এবং ১২তম মিনিটে নিখুঁত শটে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নেন।
ক্রোয়েশিয়াও অবশ্য গোল খেয়ে দমে যায়নি এবং ৩৬তম মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরায়। ডি-বক্সের বাইরে থেকে মার্টিন বাতুরিনা এক দুর্দান্ত শটে বল জালের ওপরের কোনায় পাঠান। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে ইংল্যান্ড আবারও লিড পুনরুদ্ধার করে। ৪২তম মিনিটে একটি কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে জোরালো হেড করে বল জালে জড়ান হ্যারি কেইন। এটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে কেনের ১০ম গোল, যা তাকে ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় গ্যারি লিনেকারের পাশে বসিয়েছে।
তবে ক্রোয়েশিয়া সহজে হাল ছেড়ে দেওয়ার দল ছিল না। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে পেতার মুসা এক দারুণ আক্রমণ থেকে একদম কাছ থেকে জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে স্কোরলাইন ২-২ করেন।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতে ইংল্যান্ড খুব একটা সময় নষ্ট করেনি। হাফ-টাইমের ঠিক দুই মিনিট পরেই এলিয়ট অ্যান্ডারসনের এক চমৎকার পাস থেকে বল পান বেলিংহাম। এই মিডফিল্ডার দ্রুত গতিতে সামনে এগিয়ে গিয়ে ফার-পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে আবারও লিড এনে দেন।
এই গোলের পর ম্যাচের গতিপথ পুরোপুরি বদলে যায়। ইংল্যান্ড একের পর এক সুযোগ তৈরি করে ক্রোয়েশিয়াকে রক্ষণাত্মক খেলতে বাধ্য করে। এ সময় গোলরক্ষক লিভাকোভিচ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে তার দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। ক্রোয়েশিয়া পুনরায় সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও ইংল্যান্ডের রক্ষণব্যুহ ভাঙতে বেশ সংগ্রাম করছিল। অন্যদিকে গোলপোস্টের নিচে পিকফোর্ডও বেশ সতর্ক ছিলেন এবং যখনই প্রয়োজন হয়েছে বিপদ সামাল দিয়েছেন।
অবশেষে ৮৫তম মিনিটে ইংল্যান্ড ম্যাচের জয় নিশ্চিত করে। ডি-বক্সের ভেতর একটি আলগা বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বুকায়ো সাকা পাস বাড়িয়ে দেন র্যাশফোর্ডের দিকে। এই ফরোয়ার্ড অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় প্লেসিং শটে বল জালের নিচের কোনায় পাঠান।
ম্যাচের শেষ দিকে ক্রোয়েশিয়া আর ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ পায়নি। বাকি সময়টা ইংল্যান্ড অনায়াসেই পার করে দেয় এবং বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে এক দুর্দান্ত জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে কোচ হিসেবে টুখেলের অভিষেকটাও রাঙাল ইংল্যান্ড এবং একই সঙ্গে ‘এল’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানে উঠে এল তারা।


