সমীকরণ একদম সহজ ছিল আইভরি কোস্টের। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জয় পেলেই নিশ্চিত হবে নকআউট। বিশ্বকাপে অভিষিক্ত দলটিকে হারিয়েই শেষ পর্যন্ত প্রথমবার নকআউট পর্বের টিকিট কাটার নতুন ইতিহাস গড়ল আইভরি কোস্ট।
ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে শুক্রবার বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপে কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়েছে তারা। আইভরি কোস্টের দুর্দান্ত এই জয়ের নায়ক নিকোলাস পেপে, ভিয়ারিয়ালের এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার একাই করেছেন জোড়া গোল।
বিপরীতে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ১ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে নবাগত দল কুরাসাওকে। অভিষেক বিশ্বকাপে মিশ্র অনুভূতির অভিজ্ঞতা হলো তাদের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে লিভানো কোমেনেনসিয়া দেশের হয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রথম ঐতিহাসিক গোলটি করে জার্মানির বিপক্ষে সমতা ফিরিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নেয়।
অবশ্য নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অন্য এক আনন্দের দেখা পায় তারা। গোলকিপার এলয় রুমের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে ইকুয়েডরকে ০-০ গোলে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ঐতিহাসিক পয়েন্ট তুলে নেয় দলটি।
‘ই’ গ্রুপে ৩ ম্যাচে দুই জয় ও এক হার নিয়ে ৬ পয়েন্ট পাওয়া জার্মানি গ্রুপসেরা হয়ে শেষ ৩২-এ উঠেছে। সমান ম্যাচে ২ জয় ও ১ হারে ৬ পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউট নিশ্চিত হয়েছে আইভরি কোস্টের। দ্বিতীয় রাউন্ডে তারা মুখোমুখি হবে আই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলের, যেখানে ফ্রান্স বা নরওয়ে হতে পারে তাদের প্রতিপক্ষ।
চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের জাত ভালোভাবে চিনিয়েছে আইভরি কোস্ট। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় পেতে অবশ্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল তাদের। ম্যাচের ৯০ মিনিটে বদলি বেঞ্চ থেকে এসে জয়সূচক গোলটি উপহার দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা আমাদ দিয়ালো। আর দ্বিতীয় ম্যাচে অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক কেসির গোলে জার্মানির বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিল তারা, যদিও শেষ পর্যন্ত হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
নকআউট নিশ্চিতের এই ম্যাচে অবশ্য আইভরি কোস্টের চেয়ে শট বেশি নিয়েছে কুরাসাও। মাত্র ৩৭ শতাংশ বল দখলে রেখে ১১টি শট নিয়ে দুইটি লক্ষ্যে রাখে তারা। যেখানে আইভরি কোস্টের ৭টি শটের মধ্যে তিনটি ছিল গোলমুখে।
তবে ম্যাচে লিড নিতে খুব একটা বেশি সময় নেয়নি আইভরি কোস্ট। সপ্তম মিনিটেই কুরাসাও রক্ষণভাগের এক ভুলের সুযোগ নিয়ে বাইলাইন থেকে বল কেড়ে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে দারুণভাবে কাট ব্যাক করা হয় ডি বক্সের মাঝে থাকা পেপের উদ্দেশ্যে। আর সেখান থেকে গোলকিপার রুমকে পরাস্ত করে আলতো টোকায় বল জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি পেপে।
পুরো প্রথমার্ধ জুড়েই বাম প্রান্ত দিয়ে কুরাসাওয়ের রক্ষণে অনবরত ভীতি ছড়িয়েছেন ইয়ান দিওমান্দে। ডি বক্সের ভেতর সতীর্থদের উদ্দেশ্যে বাড়িয়েছেন বেশ কয়েকটি পাস। তবে ছেড়ে কথা বলেনি কুরাসাও। দূরপাল্লার শটে তাহিত চং গোল করার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন।
এ ছাড়া লিয়েন্দ্রো বাকুনার একটি জোরালো শট সাইড নেটে লাগলে প্রথমার্ধে আর গোল পায়নি কুরাসাও। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে আরও একটি গোল আদায় করে নেয় আইভরি কোস্ট। পেপের সেই দ্বিতীয় গোলের ওপর ভর করেই শেষ পর্যন্ত উৎসব করতে করতে মাঠ ছাড়ে তারা।


