এক কেজি আমের দাম কত? পাঁচশো, হাজার নাকি লাখ টাকা। বিরল প্রজাতির ‘মিয়াজাকি’ আমের এক কেজির দাম আড়াই লাখ টাকারও বেশি। সেই আমের গাছ জাপান থেকে এনে স্ত্রীকে উপহার দিয়েছিলেন আলাউদ্দিন আহমেদ।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা বাড়ি ‘প্যারেন্ট লজের’ ছাদে ড্রামে রাখা হয় গাছটি। কিন্তু লক্ষাধিক টাকার সেই শখের আমগাছ হঠাৎ একদিন উধাও হয়ে যায় ড্রামসহ।
সম্ভাব্য স্থানে খুঁজেও সন্ধান মেলেনি গাছটির। বৃহস্পতিবার দুপুরে মূল্যবান এই গাছ হারানোর ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন প্যারেন্ট লজের ব্যবস্থাপক মো. সাইফুর রহমান।
উপজেলার নন্দলালপুরের আলাউদ্দিন নগরে অবস্থিত প্যারেন্ট লজের মালিক আলাউদ্দিন আহমেদ হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের চেয়ারম্যান। বছর খানেক আগে গাছটি জাপান থেকে এনে স্ত্রী সুরাইয়া বিলকিসের জন্মদিনে উপহার দিয়েছিলেন বলে জানান সাইফুর রহমান।
জানা যায়, ১৯৭০ দশকের দিকে জাপানের মিয়াজাকি নামক স্থানে এ আমের চাষ শুরু হয়। বিশ্বের অন্যতম বিরল প্রজাতির আম – ‘মিয়াজাকির’ প্রতি কেজির দাম আড়াই লক্ষ টাকারও বেশি। আমটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘তাইয়ো নো টোমাগো’। তাছাড়া আমটি ‘এগ অব সানসাইন’ নামেও পরিচিত।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপহার পেয়ে গাছটি প্লাস্টিকের ড্রামে লাগান সুরাইয়া বিলকিস। গত ১ এক সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে হঠাৎ ড্রামসহ গাছটি উধাও হয়ে যায়।
বাড়িটির পাহারাদার মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘বাড়িতে ২৪ ঘণ্টা পাহারা থাকে। সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। আমি ৬ মাস হলো কাজে যোগ দিয়েছি। গাছের বিষয়ে কিছু জানি না।’
সবুজায়নের লক্ষে প্যারেন্ট লজসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় দেড় হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক গোলাম হাফিজ।
গাছ হারানোর ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ পড়েছে জানিয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে একটি গাছ হারানোয় এমন অভিযোগ এই এলাকায় হয়তো এটিই প্রথম।’


