কুড়িগ্রামে চলমান জ্বালানি তেল সংকট মোকাবিলায় জেলার সব ফিলিং স্টেশন তদারকির জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব দিয়েছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, জেলা প্রশাসনের পাঠানো এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
অফিস আদেশে জানানো হয়, জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোর দৈনিক চাহিদা ও মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ মজুত বন্ধ এবং খোলাবাজারে অবৈধ বিক্রি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রতিদিনের তেল প্রাপ্তি ও বিক্রির প্রতিবেদন সংগ্রহের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে এই অফিস আদেশে।
জেলা ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, রেশনিং পদ্ধতিতে চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহের কারণে ঈদের আগেই জেলার ২২টি ফিলিং স্টেশন তেলশূন্য হয়ে পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ গ্রাহকরা।
ঈদের পর সরবরাহ শুরু হলেও তা এখনও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। আবার সব ফিলিং স্টেশনে একসঙ্গে তেল সরবরাহ না হওয়ায় যেসব পাম্পে তেল আসে, সেখানে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হচ্ছে।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জামান আহমেদ কাজল বলেন, প্রশাসন পাম্প তদারকির জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট ও রেজিস্ট্রেশন প্লেট ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল বিক্রি না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে জেলায় চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সব পাম্পে একসঙ্গে তেল সরবরাহ না হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। একটি পাম্প তেল পেলে পাশের আরেকটি পাম্প পায় না।
এতে গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে এবং সবাই একসঙ্গে তেল নিতে ছুটে আসছেন। ‘আমরা চাই চাহিদা অনুযায়ী সব পাম্পে একসঙ্গে তেল সরবরাহ করা হোক’ যোগ করেন কাজল।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেল চালকদের চাপ বেশি। অনেকেই বারবার তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যা মজুত ও কালোবাজারির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
এ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলার বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হবে এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে জানান তিনি।

