জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশন অনুযায়ী গণশুনানির আয়োজন করেছিল চট্টগ্রামের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি।
গত বুধবার আয়োজিত এই গণশুনানিতে শোনা হয় সেবা নিতে গিয়ে নাগরিকদের সমস্যা, তাদের অভিযোগ-অনুযোগ।
এসময় অংশীজন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাকাএভ) এর প্রতিনিধি, আইসিএমএবি-আইসিএসব-আইসিএবি’র প্রতিনিধি, সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট, শিপিং এজেন্টের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
গণশুনানিতে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ তুলে ধরার পাশাপাশি নিজেদের মতামতও প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারী ও অংশজনরা।
যার মধ্যে রয়েছে বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষার সিলেবাস, প্রায়োগিক প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি ও আইটি বিষয়ে নানা পরামর্শ; আমদানিকারক, সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট ও শিপিং এজেন্টদের দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে অস্পষ্টতা দূর করতে ওয়ার্কশপ আয়োজনের প্রস্তাব; একাডেমিকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের উপর বিশেষ কোর্স আয়োজনের প্রস্তাব ইত্যাদি।
এছাড়াও একাডেমির অবকাঠামো উন্নয়ন ও ব্যবসা প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, ওয়ার্কশপ আয়োজন করার বিষয়ে মতামত দেন অংশীজরা।
অংশীজনদের দেওয়া এসব পরামর্শ-প্রস্তাব সম্পর্কে আলোচনা করেন একাডেমির মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, যুগ্ম পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এসময় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন তারা।
কর্মকর্তারা জানান, কাস্টমস আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে কাস্টমস ট্রেনিং একাডেমি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ একাডেমির মর্যাদা পাবে। এছাড়া প্রশিক্ষণ মডিউল প্রায়োগিক, যুগোপযোগী ও আধুনিকায়নের কাজ চলছে বলেও জানানো হয়।
উল্লেখ্য, আধুনিক ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য ১৯৮১ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রামে স্থাপন করা হয় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি। মূলত বিসিএস কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ ক্যাডারের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এখানে।
এছাড়াও, কাস্টমস ও ভ্যাট এর বিভিন্ন প্রায়োগিক বিষয়ে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের রিফ্রেশার্স কোর্স; মূসক পরামর্শক লাইসেন্স, মূসক এজেন্ট লাইসেন্স ও বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষারও আয়োজন করে এই একাডেমি।


