আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ইলিশ রপ্তানি শুরু হলেও বরিশালে মাছের সংকট থাকায় তাতে দেখা দিয়েছে ধীরগতি। বরিশালের আড়তে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না থাকায় চলতি বছরও রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
তিনদিনে ৭২টি ককসিটে ২০ কেজি করে মোট ৩৬ মণ ইলিশ রপ্তানি করা হয়েছে। এ অবস্থায় ইলিশ রপ্তানি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পোর্টরোড মৎস্য আড়ৎ জানায়, চলতি বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ মাছ রপ্তানির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ দিনের জন্য ভারতে ইলিশ রপ্তানি করার অনুমতি পেয়েছে বরিশালের ইলিশ রপ্তানিকারকরা। বরিশালের চারটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মাহিমা এন্টারপ্রাইজ, নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজ, এ আর এন্টারপ্রাইজ ও তানিসা এন্টারপ্রাইজ ইলিশ রপ্তানি করার অনুমতি পায়।
বরিশাল পোর্টরোড মৎস্য আড়তের মাহিমা এন্টারপ্রাইজ তিনটি লাইসেন্সে ৯০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু বরিশালের পোর্টরোড, বেলতলা ও চন্দ্রমোহন ইলিশ মোকামে চলছে ইলিশের আকাল।
এর আগে, ২০১২ সালে ইলিশ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার আগে শুধু বরিশাল থেকে প্রতি বছর ৩ লাখ ৬০ হাজার মণ ইলিশ বিদেশে রপ্তানি হতো। এই মোকামে ১৬৫ আড়তদারসহ কয়েক হাজার জেলে মহাজন ও পাইকাররা আয় করত বাড়তি অর্থ।
ইলিশ আড়তদার ও রপ্তানিকারকরা জানান, এলসি সাইজের(৮০০ থেকে ১২০০ গ্রাম ওজনের) ইলিশ রপ্তানি করা হয়। এরই মধ্যে মৌসুমের শেষে আবারও নিষেধাজ্ঞার কারণে মোকামগুলোতে ইলিশের আমদানি কমেছে। মোকামগুলোতে প্রতিদিন ১৫-২০ মণ করে এলসি সাইজের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
‘নদীতে কোন মাছ না থাকায় মোকামেও কম রয়েছে। দুই-একটা করে সংগ্রহ করছি। এখন কীভাবে যে মাছ দিতে পারব তা জানি না। আমরা এই টার্গেট পূরণ করতে পারব কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি’ বলে জানিয়েছেন পোর্টরোডের ইলিশ রপ্তানিকারক মোহাম্মদ বাবর সিকদার।
পোর্টরোড মৎস্য আড়ৎদার ইয়ার হোসেন সিকদার জানান, বাজারে বর্তমানে ইলিশের সরবরাহ কম রয়েছে। তাই যে দরে মাছ দেওয়া হচ্ছে তাতে অনেকেই পোষাতে পারবেন না। আগে এই বাজারে ৫০০ থেকে ৭০০ মণ ইলিশ আমদানি হতো। এখন সেখানে ১০০ থেকে ১৫০ মণ ইলিশ আসে না।
বরিশালের মোকামে এলসি (৯০০ গ্রাম) নদী ও সাগরের ইলিশের বর্তমান দর প্রতিমণ চলছে ৮০ হাজার টাকা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবার প্রতি কেজি ইলিশের ন্যুনতম রপ্তানি ১ হাজার ৫২৫ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) নির্ধারণ করেছে। অথচ খোলা বাজারের এর চেয়ে বেশি দামে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। বাজারদর কম ও বেশি সমন্বয় করে ইলিশ রপ্তানিকে টিকে থাকতে হচ্ছে। লাইসেন্স বাঁচানোর জন্যও অনেকে এবার রপ্তানি করছেন।
বরিশাল পোর্টরোড মৎস্য আড়ৎদার মালিক সমিতি বলছে, বর্তমানে যেমন ইলিশ সংকট, তেমনি দামও নাগালের বাইরে রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে ইলিশের সংকট থাকায় এলসি সাইজের ইলিশ রপ্তানিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে রপ্তানিকারকদের।
বরিশাল পোর্টরোড মৎস্য আড়ৎদার মালিক সমিতির সভাপতি কামাল সিকদার বলেন, নদীতেই মাছ কম, এই কমের কারণে টার্গেট পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। গত বছর ইলিশের এলসিতে যে টার্গেট আমরা পূরণ করতে পেরেছি, এ বছর তা পারবো কিনা তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। গত বছর এই এলসি সাইজের ইলিশ প্রতিমণ বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা দরে। আর এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৮০ হাজার টাকা দরে।
বরিশালের ইলিশের মোকামে বর্তমানে এলসি ৯০০ গ্রামের ইলিশ প্রতিমণ ৮০ হাজার, ৫০০ গ্রামের ইলিশ ৬৪ হাজার, এক কেজির ইলিশ ৯২ হাজার, ১ হাজার ২০০ গ্রামের ইলিশ ৯৭ হাজার টাকা প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে।


