পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘরের সিঁধ কেটে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় মূল আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার বনানী এলাকা থেকে মূল আসামি মো. রাব্বি খানকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় অপরাধে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামতও জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কলাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা মো. রাব্বি খান (৩২), মো. রুবেল মৃধা (৪০) ও মো. ইমন হাওলাদার (৩৫)।
গত ২২ মে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বনানী থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী তরুণী স্থানীয় একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী রাব্বি খান তাকে কলেজে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল।
গত ১৬ মে গভীর রাতে ভুক্তভোগীর মা ও ভাই মাছ ধরতে নদীতে গেলে মেয়েটি ঘরে একা ছিলেন। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে অভিযুক্তরা ঘরের টিনের চালার নিচে সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা ঘুমন্ত ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় ভুক্তভোগী চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। তখন আলোর সহায়তায় মূল আসামি রাব্বিকে শনাক্ত করেন ভুক্তভোগী তরুণী। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত তিনজনই দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরদিন ১৬ মে কলাপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশের একাধিক টিম তদন্তে নামে।
পুলিশ জানায়, আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করছিল। পরে কলাপাড়া থানা পুলিশ স্থানীয় এলাকায় অভিযান চালিয়ে রুবেল মৃধা ও ইমন হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার বনানী থানা এলাকা থেকে মূল আসামি রাব্বি খানকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর রাব্বি খান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপরাধে ব্যবহৃত কাঁচি, বঁটি, লাঠি ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।


