করতোয়া নদীর বাঁধ ভাঙনে গাইবান্ধায় আতঙ্ক

করতোয়া নদীর বাঁধ ভাঙনে গাইবান্ধায় আতঙ্ক
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় করতোয়া নদীর বাঁধের একটি অংশে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধের রাস্তা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর বিভিন্ন অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম আতঙ্ক।

সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত এবং করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সাপমারা ইউনিয়নের চকরহিমপুর এলাকায় এই ভাঙন শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বাঁধের প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে প্রায় ৫০০ মিটার অংশ।

সম্প্রতি ওই এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাঁধ এবং এর সংলগ্ন সড়কের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে নদীতে ভেসে গেছে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। বাঁধের আরও ক্ষতি হলে পুরো এলাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।

সাহেবগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ইউনুস সরদার জানায়, বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের অনেক পথ ঘুরে স্কুলে যেতে হচ্ছে। প্রতিদিন তাদের অনেক বেশি দূরত্ব পার হতে হয়। এর ফলে তারা প্রায়ই সময়মতো ক্লাসে পৌঁছাতে পারে না, এতে তাদের পড়াশোনার সময় নষ্ট হয়।

নারেঙ্গাবাদ মৌজার বাসিন্দা আমির হোসেন প্রধান বলেন, প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য এই বাঁধের রাস্তার ওপর নির্ভর করে প্রায় ১০ হাজার মানুষ। ভাঙনের কারণে রাস্তার কিছু অংশ নদীতে হারিয়ে গেছে। মানুষ চলাচলে মারাত্মক সমস্যায় পড়ছে, ছাত্র-ছাত্রীরা নিয়মিত স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না। তিনি সরকারকে দ্রুত একটি বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

আরও পড়ুন

সাহেরা বেগম নামের আরেক বাসিন্দা জানান, রাস্তাটি ধসে যাওয়ার পর গ্রামবাসী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। তারা এখন সহজে গ্রাম থেকে বের হতে পারছেন না। এমনকি প্রতিবেশীদের জমির ওপর দিয়ে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পথ দিয়ে এখন আর কোনো গাড়ি বা মোটরসাইকেল চলতে পারছে না। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ সরদার বলেন, তার গ্রামে প্রায় দেড় হাজার মানুষ বাস করে যারা এই বাঁধের ওপর নির্ভরশীল। রাস্তাটি ইতোমধ্যে নদী গিলে খেয়েছে, বাঁধের কেবল সামান্য একটি অংশ অবশিষ্ট আছে। এই বাকি অংশটুকু ভেঙে গেলে পুরো এলাকা বড় বিপদের মুখে পড়বে।

তিনি বাঁধ রক্ষায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি পরিদর্শন করে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে বাঁধ সুরক্ষার কাজ শুরু করতে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে আবেদন পাঠিয়েছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad