কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তের শূন্যরেখায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মাইনটি মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ) পুঁতে রেখেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বিআরএম-২১ পিলার সংলগ্ন উখিয়া উপজেলার বালুখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত যুবকের নাম মো. সাদেক (২৫)। তিনি উখিয়ার ১০ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের এফ-১৩ ব্লকের বাসিন্দা।
বিস্ফোরণের পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালংস্থ এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিজিবি জানায়, বিআরএম-২১ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মাস্টার কাঠি পোস্ট থেকে প্রায় ২৫০ মিটার উত্তরে নারিকেল বাগান এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এলাকাটি শূন্যরেখা থেকে প্রায় ১৫০ মিটার মিয়ানমারের ভেতরে অবস্থিত।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সীমান্তবর্তী এলাকায় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবক আহত হওয়ার বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়। এর আগে গত ২৯ মার্চ উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী সীমান্তে নাফ নদীর শূন্যরেখায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে আব্দুল হাকিম (১৫) নামের এক রোহিঙ্গা কিশোর গুরুতর আহত হয়।
এ ছাড়া, গত ২৬ মার্চ একই উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তে নাফ নদীর শূন্যরেখায় আরেকটি স্থলমাইন বিস্ফোরণে মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম (২৫) নামের এক রোহিঙ্গা যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়।


