কক্সবাজারের টেকপাড়া এলাকায় ছুরিকাঘাতে সানজিদা আক্তার (রেশমি) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারী মারা যান। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ইয়াসমিন হামলার দায় স্বীকার করেছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত সানজিদা আক্তার রেশমি একটি মুদির দোকান থেকে বাজার করতেন। এক পর্যায়ে দোকানের ব্যবসায়ী শফিউল আলম সওদাগরের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।
বিষয়টি জানতে পেরে পেশকারপাড়ার বাসিন্দা শফিউল আলম সওদাগরের স্ত্রী ইয়াসমিনসহ পাঁচ নারী সানজিদার বাসায় যান। সেখানে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সানজিদাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
ওই সময় সানজিদা ও তার ১২ বছর বয়সী ছেলে সাব্বির চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় সানজিদাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাসায় কাজ করা নারী আনোয়ারা বেগম জানান, সানজিদার সাবেক স্বামী ঠিকাদার ইমন পেশকারপাড়ার পারভিন আক্তার নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। ওই নারীর প্ররোচনায় আরও কয়েক নারী এসে সানজিদাকে ছুরিকাঘাত করেন।
নিহতের ছেলে সাব্বির জানায়, ঘটনার সময় তার মা এবং সে বাসায় ছিল। এ ছাড়া শফিউল আলম সওদাগর ও অপর এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে ছিল। এক পর্যায়ে পাঁচজন নারী এসে তার মায়ের ওপর হামলা চালায় ও তাকে ছুরিকাঘাত করে।
প্রতিবেশী এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে অভিযুক্ত নারী ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান অভিযুক্ত ইয়াসমিনকে আটক করলে তিনি সানজিদার ওপর হামলার দায় স্বীকার করেন।
স্থানীয় সমাজকর্মী ডালিম ও রিয়াদ জানান, নিহত সানজিদার বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বারদোনা এলাকায়। ঘটনার সময় তার নিকট আত্মীয় কেউ আশপাশে ছিলেন না। প্রতিবেশী হিসেবে তারাই গুরুতর আহত সানজিদাকে হাসপাতালে নেন। তবে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নিহতের প্রাক্তন স্বামী ইমন দাবি করেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসে সাবেক স্ত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ্র সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনজনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’


