গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে তিনি হাদির কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে মোনাজাত করেন তিনি। পরে কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতেও শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান।
এসময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন আহমদ, রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীরা। মোনাজাতে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়াজ আহমেদ খান।
ঢাকার গুলশানের বাসা থেকে রওনা হয়ে তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে ওসমান হাদির কবরে যান।
হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শাহবাগে আন্দোলন করছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। তারেক রহমানের জন্য সাময়িকভাবে শাহবাগ ছেড়ে আজিজ সুপার মার্কেটের দিকে সরে গেছেন তারা। দুপুর ১২টায় তাদের আবার শাহবাগে অবস্থান নেওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে বিএনপির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, পঙ্গু (জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পূর্নবাসন প্রতিষ্ঠান) হাসপাতালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কোনও আহত না থাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সেই কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। পাশের একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে অটোরিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে নেওয়া হয় বসুন্ধরার বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে।
সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে মারা যান ওসমান হাদি।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে গত বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। সেদিনই তিনশ ফিটে সংবর্ধনা শেষে এভারকেয়ার হাসপাতালে মা খালেদা জিয়াকে দেখতে যান তিনি। পরদিন শুক্রবার বাবা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করে যান সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে।
শনিবার ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করে তার নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার কথা রয়েছে। এদিন শেরে বাংলা নগরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পূর্নবাসন প্রতিষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে আহতদের দেখতে যাওয়ারও কথা ছিল তারেক রহমানের।


