চট্টগ্রামে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রতারণার মামলায় এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাসহ তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিতরা হলেন পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (ব্যবস্থাপক) সিরাজুল ইসলাম, আবু দাউদ চৌধুরী রিপন ও মো. শাহ আলম।
দুদকের আইনজীবী মোকাররম হোসেন জানান, সাক্ষ্যপ্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে।
রায়ে আদালত সিরাজুল ইসলামকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় ৫ বছর এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ১ বছরসহ মোট ৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে ৩৯ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অপর দুই আসামি আবু দাউদ চৌধুরী (রিপন) ও মো. শাহ আলমকে ৫ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩৯ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
একই ধরনের আরেকটি মামলাতেও আজ তিন আসামির বিরুদ্ধে একই মেয়াদের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় প্রত্যেককে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ১৪০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিন আসামিই পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা অনুযায়ী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, কক্সবাজার শাখায় কর্মরত অবস্থায় সিরাজুল ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার করে গ্রাহকের হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকলেও নিয়ম ভেঙে ওভারড্রাফট সুবিধা দেন। এর মাধ্যমে ১৯৯৮ সালে ১০টি চেকের বিপরীতে প্রায় ৩৪ লাখ ১৪ হাজার ৪২২ টাকা এবং ১৯৯৯ সালে আরও চারটি চেকের মাধ্যমে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। পরে ওই অর্থ অবৈধভাবে আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বিচার চলাকালে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে অব্যাহতির আবেদন জানালেও আদালত তা নাকচ করেন।


