জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’-এর আইনি বৈধতা এবং এর নেপথ্য উদ্দেশ্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন সরকারি দলের লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম।
একই অধিবেশনে বিশ্ববাজার ও অভ্যন্তরীণ সংকটের অজুহাতে জ্বালানি তেল ও এলপিজির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়ে তা কমানোর দাবি তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
মঙ্গলবার বিকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এসব ইস্যু উঠে আসে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনের কোনো সুদৃঢ় আইনি ভিত্তি ছিল না। শুরুতেই তারা ভোটারদের বয়স ১৭ এবং প্রার্থীদের বয়স ২৩ বছর করার মতো অযৌক্তিক প্রস্তাব দিয়ে আমাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে—ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।’
তিনি অভিযোগ করেন, এই কমিশনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনকে প্রলম্বিত করা। বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমেদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, তার বুদ্ধিমত্তার কারণেই জাতিকে নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।
সেলিম আরও বলেন, কমিশন নির্বাহী বিভাগকে ‘ঠুঁটো জগন্নাথে’ পরিণত করে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। মূলত বিএনপি ক্ষমতায় আসবে ধরে নিয়েই তাদের হাত-পা বাঁধার এই নীলনকশা করা হয়েছিল।
যখন রাজনৈতিক দলগুলো সংলাপে ব্যস্ত ছিল, তখন অন্তর্বর্তী সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের ৫১ একর জমি মাত্র ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় ৪৮ বছরের জন্য বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার ‘অসম চুক্তি’ করেছে। তিনি দাবি করেন, এই বিনিয়োগ করার মতো সক্ষমতা হাজারো দেশি উদ্যোক্তার রয়েছে।
তিনি নিজের এলাকা লক্ষ্মীপুরের করপাড়া গ্রামের ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন, ১৯৪৬ সালে পাকিস্তান আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল সেখান থেকেই, যেখানে মহাত্মা গান্ধী নিজে শান্তি স্থাপনে এসেছিলেন।
জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপনকালে এনসিপি সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, সরকার আগে প্রতিশ্রুতি দিলেও হঠাৎ করে জ্বালানি তেল ও এলপিজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বৈশ্বিক যুদ্ধের দোহাই দেওয়া হলেও জ্বালানি সংকটের পেছনে কিছু কৃত্রিম কারণও রয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ।
রাতারাতি দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকায় নাভিশ্বাস উঠছে। তাই জনমনে স্বস্তি ফেরাতে দ্রুত বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করে দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।
সংসদ অধিবেশনে এ সময় বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী আমলের গৃহীত কিছু সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা ও বিতর্ক চলে।


