সোমবার বিকেলের পড়ন্ত রোদে বাফুফে ভবনের সামনের লবিতে যখন তাবিথ আউয়াল সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন, তখন অবধারিতভাবেই সামনে এলো ২০২৬ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ২০১৮ সালের পর আবারও কি ঢাকার গ্যালারি কাঁপাবে সাফের উন্মাদনা? ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন এই একটাই প্রশ্ন। গুঞ্জন আছে, ২০২৬ আসরের আয়োজক হওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ।
সাফ আয়োজনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বেশ আত্মবিশ্বাসের সুরেই জবাব দেন।
শুরুতেই সাফ ফুটসাল নিয়ে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘সাফ নিয়ে প্রথমে আমরা প্রস্তুত এবং আমরা দৃড়ভাবে বিশ্বাস করি প্রথমবারের মতো সাফ ফুটসাল যেটা হতে যাচ্ছে আমরা মেয়েদের এবং ছেলেদের টুর্নামেন্টে আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্যতা রাখি।’
সাফ ফুটসালের পাশাপাশি মূল আসর নিয়েও তার পরিকল্পনা সুদূরপ্রসারী। তাবিথ আউয়াল যোগ করেন, ‘আর সাফ ফুটবলের পুরুষদের টুর্নামেন্টটা সব ঠিক থাকলে বাংলাদেশই হোস্ট করবে। আমরা উইন্ডো নিয়েও এখন একটু বিবেচনা করছি। তবে আমরা যদি সাফ আয়োজন করতে চাই তাহলে আমাদের নিজস্ব ভিশন থাকবে আমরা পুরা বাংলাদেশে খেলাটা ছড়িয়ে দিতে চাই। সেখানে আমরা চাব কমপক্ষে তিনটি ভেন্যু যেন আমরা ব্যবহার করতে পারি। আমাদের চিন্তা ঢাকার বাইরে দুইটা ভেন্যু নিয়ে। তাহলে আমি মনে করি যে সাফটা আসলে জাঁকজমক হবে এবং আমরা হোস্ট হিসেবে দেখাতে পারব যে আমরা একটা ভালো টুর্নামেন্ট হোস্ট করতে পারি।’
সাফ আয়োজনের পথে বড় একটি চ্যালেঞ্জ হলো প্রতিবেশী দেশ ভারতের অংশগ্রহণ। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও তাবিথ তা উড়িয়ে দিলেন সরাসরি।
তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘আমি মনে করি না ফুটবলে আমরা অন্য কোনো বিবেচনা কখনো রাখি। ফুটবলের ক্ষেত্রে নভেম্বর মাসেও আমাদের প্রতিবেশী দেশ খেলে গিয়েছে। গত মার্চে আমরা গিয়েছিলাম ফুটবল ফেডারেশন হিসেবে খেলার জন্য। তো আমি মনে করি না যে অন্য কোনো ক্ষেত্র নিয়ে চিন্তা করাটা ফুটবলের ক্ষেত্রে সমিচীন হবে। আমি বিশ্বাস করি ফুটবল ফুটবলের মতোই চলে আর ফুটবল খেলোয়াড়রা ফুটবল নিয়েই ভাবে।’
তার এই বক্তব্যে পরিষ্কার বার্তা, মাঠের খেলায় মাঠের বাইরের রাজনীতিকে ঠাঁই দিতে নারাজ বাফুফের নতুন নেতৃত্ব।
তবে শুধু সাফ নয়, জাতীয় দলের আসন্ন ফিফা উইন্ডো এবং এএফসি বাছাইপর্ব নিয়েও কথা বলেন তিনি। মার্চের উইন্ডোতে এক বা একাধিক প্রীতি ম্যাচ খেলার চেষ্টা চলছে। জুনে মালদ্বীপের আমন্ত্রণও বাফুফের তালিকায় আছে। তবে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এএফসি বাছাইয়ের শেষ ম্যাচটি হবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক সময়ে হামজা চৌধুরী এবং কানাডা প্রবাসী শমিত সোমের মতো প্রতিভাদের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তি দর্শকদের মাঠে ফেরার পালে নতুন করে হাওয়া দিয়েছে। ঢাকার গ্যালারি যদি আবারও লাল-সবুজ জোয়ারে ভাসে, তবে ২০২৬ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ হতে পারে বাংলাদেশের ফুটবলের পুনর্জাগরণের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন।


