উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার চৌহালী, সদর ও কাজীপুর উপজেলায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বর্নি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এ ছাড়া নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বিভিন্ন এলাকায় নদীতীর রক্ষা বাঁধ ও সংরক্ষণ প্রকল্পের অংশবিশেষ। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত) যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুরের মেঘাইঘাট পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে বর্তমানে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৪৮ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর পয়েন্টে ১৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ইতোমধ্যে সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা গ্রামে নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার, চৌহালী উপজেলার চর বিনানই ঘাট এলাকায় প্রায় ১৫০ মিটার এবং কাজীপুর উপজেলার পলাশপুর ঘাট এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের বেশ কিছু অংশ যমুনায় বিলীন হয়েছে।
সদর উপজেলার বাহুকা গ্রামের বাসিন্দা মজিবুর রহমান জানান, দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা না নিলে তাদের অবশিষ্ট জমিজমাও নদীগর্ভে চলে যাবে। এর আগে বাড়িঘর হারিয়ে তিনি বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন।
চৌহালীর চর বিনানই ঘাট এলাকার বাসিন্দা ইমরান নাজির বলেন, যমুনার প্রবল স্রোতে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ১৫০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে উপজেলার আরও বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙনের শিকার হতে পারে।
সদর উপজেলার ভাটপিয়ারি গ্রামের আব্দুস ছালাম অভিযোগ করেন, নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙন বেড়েছে। একসময় যে চরে তিনি ধান, গম ও কালাইসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করতেন, সেটি এখন নদীগর্ভে চলে গেছে।
কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া জানান, ইউনিয়নের বড় কয়ড়া, বর্নি ও কৈগাড়ি জড়তা গ্রামে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্নি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। শিক্ষার্থীদের পাঠদান সাময়িকভাবে দুর্যোগ আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা বিভাগকে জানানো হয়েছে।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ভবনটি ইতোমধ্যে নদীর দিকে হেলে পড়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পে অস্থায়ীভাবে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হলেও সেটিও এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, পানি বৃদ্ধির কারণে কয়েকটি স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগে বালু ভরে ফেলা হচ্ছে এবং পাউবোর কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।


