যেদিন তানজিদ তামিম ভালো খেলবেন, সেদিন পারভেজ হোসেন ইমন রান পাবেন না। আবার যে ইনিংসে ইমনের ব্যাটে চার-ছক্কার বন্যা, সেই ইনিংসে তানজিদ রানের খাতাই খুলতে পারেননিল; এমন দৃশ্য যেন নিয়মিত বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। এতে করে অবশ্য দলের ভালোই হয়েছে, অন্তত ওপেনিং জুটি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে না বাংলাদেশকে। টি-টোয়েন্টিতে একটা সলিড জুটির জন্য যে হাপিত্যশ ছিল দলের, সেটার দীর্ঘশ্বাস কিছুটা হলেও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এই দুই বাঁহাতি ওপেনারের ব্যাটে।
২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত তানজিদ-ইমন জুটি ওপেন করেছেন ৯ ইনিংসে। সর্বোচ্চ জুটি ১১০ রানের, সব মিলিয়ে মোট ২৪৪। খুব বেশি ভালো বলার সুযোগ অবশ্য নেই। জুটি ফিফটি পেরিয়েছে মাত্র একবার, সেটাও পেরিয়েছে শতরানের ঘর। এছাড়া চল্লিশ পেরোনো জুটি আছে কেবল ২ ইনিংসে। মন্দের ভালো হিসেবে এই দুজনকে আপাতত পাশ মার্ক দেয়াই যায়। কিন্তু তারা কেউ যদি চোটে পড়েন কিংবা কোনো কারণে ম্যাচ খেলতে না পারেন, সেক্ষেত্রে ব্যাক আপ ওপেনার কে হবেন? দুয়ারে কড়া নাড়ছে এশিয়া কাপ, এর আগে আছে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হোম সিরিজ। কম্বিনেশন নিয়ে পরীক্ষা-নিরিক্ষার খুব বেশি সুযোগ, বিকল্প বা ইচ্ছাও যে টিম ম্যানেজমেন্টের আছে, এমনটাও নয়। ব্যাক আপ ওপেনারের প্রশ্নে তাই ঘুরেফিরে আসছে দুটো নাম, নাঈম শেখ ও সৌম্য সরকার।
তিন বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছিলেন নাঈম। শ্রীলংকা সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলেছেন এক ম্যাচ। তাও টিম কম্বিনেশনের জন্য পছন্দের ওপেনিং পজিশন ছেড়ে ব্য্যাট করেছেন নাম্বার ফোরে। তাই ২৯ বলে ৩২* রানের ইনিংসটা ঠিক টি-টোয়েন্টি মাফিক হয়নি। শ্রীলংকায় সুযোগ না পেলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজে খেলেছেন ২ ম্যাচ। মিরপুরের ট্রিকি উইকেটে দুই ম্যাচেই ব্যর্থ এই বাঁহাতি ওপেনার। অবশ্য উইকেটের দায় দিতে গেলেও বিপরীতে কথা বলে ইমন, সাহিবজাদা ফারহানদের মারকুটে ইনিংসগুলো। যদিও উইকেট নিয়ে সেই সিরিজে সমালোচনা ছিল বেশ।
সেসব সমালোচনার ডামাডোলে আবারও এক প্রকার বাদই পড়ে গেলেন নাঈম। ‘এ’ দলের সাথে তাকে পাঠানো হচ্ছে অস্ট্রেলিয়াতে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে। অবশ্য এশিয়া কাপের প্রাথমিক দলেও আছেন। সেখানকার ভিন্ন উইকেট-কন্ডিশনের যদি রান করতে পারেন তাহলে হয়তো নেদারল্যান্ডস সিরিজের জন্য বিবেচিত হতে পারেন, এশিয়া কাপের আগে। নাঈম তো তাও একটা প্রসেসের মধ্য দিয়ে দলে ফিরেছেন, বাদ পড়্রেছেন। কিন্তু সৌম্য সরকারের বাদ পড়াটা নিয়ে যথাযথ ব্যাখা পাওয়া যায়নি নির্বাচক প্যানেল থেকে।
শ্রীলংকা সফরের ওয়ানডে দলে সৌম্যর নাম না থাকায় সংবাদ সম্মেলন কক্ষে বেশ বিস্ময়ই দেখা গিয়েছিল সংবাদকর্মীদের মাঝে। কারণ সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সাদা বলের সিরিজে দুটো ভালো ইনিংসও ছিল তার। তবুও তাকে দলে রাখেনি বিসিবির নির্বাচক প্যানেল, বলা হয় ম্যাচ ফিটনেস তখনও পাননি সৌম্য। তবে এর কদিন পরেই রংপুর রাইডার্সের হয়ে গ্লোবাল সুপার লিগ খেলতে ঠিকই গায়ানাতে গিয়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। গুঞ্জনও উঠেছিল, ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ইচ্ছায় ও বিসিবির এক প্রভাবশালী পরিচালকের হস্তক্ষেপেই সৌম্যকে রাখা হয়নি শ্রীলংকা সফরের সাদা বলের সিরিজে।
এশিয়া কাপের প্রাথমিক দলে আছেন সৌম্যও। ফিটনেস ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন বুধবার। এর আগে নিজে থেকেই বেশ কয়েকদিন রানিং, ব্যাটিং সেরেছেন মিরপুর স্টেডিয়ামে। ডাচদের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের দলে তাকে দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সিলেটের ফ্ল্যাট উইকেটে রান করতে পারলে এশিয়া কাপের টিকেট পেয়েই যেতে পারেন। অবশ্য সৌম্য ওপেনিংয়ের সাথে মিডল অর্ডারেও ব্যাট করতে পারেন, অতীতেও করেছেন। অধিনায়ক চাইলে তার মিডিয়াম পেসকেও কাজে লাগাতে পারেন দুই-এক ওভারের অভাব ঘুচাতে। সব মিলিয়ে নাঈমের চেয়ে সৌম্যই আপাতত খানিকটা এগিয়ে আছেন, এশিয়া কাপে ব্যাকআপ ওপেনার হওয়ার দৌড়ে।


