যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের আন্তর্জাতিক যৌন অপরাধ নেটওয়ার্কে প্রভাবশালী বাংলাদেশির নাম থাকার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে মঞ্চ ২৪। এ বিষয়ে স্বাধীন, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনের নেতারা।
এ সময় সংগঠনটির আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান, নথি ও সাক্ষ্যে জেফ্রি এপস্টিইনের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যক্তিদের নাম সামনে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ আব্দুল আউয়াল মিন্টুর নাম উঠে আসা জাতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগ ও লজ্জাজনক।’
‘আমরা কোনো ব্যক্তিকে আগাম দোষী সাব্যস্ত করছি না। তবে আন্তর্জাতিক পরিসরে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ সামনে আসার পর নীরব না থেকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে নীরবতা অপরাধের সমান।’
ফারুকী দাবি করেন, এপস্টিন নথিতে বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগটি শুধু একজন ব্যক্তিকে ঘিরে নয়; এটি রাষ্ট্রের নৈতিকতা, সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। যদি কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে বড় ধরনের দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় তিনি আসন্ন নির্বাচনে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বডি ক্যামেরার তথ্য বা ফুটেজ বিদেশি সাংবাদিকদের হাতে পৌঁছানোর বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
ফারুকী বলেন, ‘এটি শুধু তথ্য ফাঁস নয় বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।’ এ বিষয়ে অবিলম্বে সেনাবাহিনীর ভেতরে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত শুরুর দাবিও জানান তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনী প্রচারে এক প্রার্থীর সেনানিবাসে প্রবেশ ও বিতর্কিত আচরণের ঘটনায় তিনি বলেন, ‘সেনানিবাস একটি সংবেদনশীল এলাকা, সেখানে অস্ত্র বহন ও প্রবেশে কঠোর নিয়ম থাকা স্বাভাবিক এবং তা মেনে নেওয়াই রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার অংশ।’ তবে পরে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়াকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বলেও জানান ফারুকী।
শুধু তাই নয়, সেনাবাহিনীর সংবেদনশীল তথ্য বিদেশে পাচার হওয়া এবং বঙ্গভবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লিংক ব্যবহার করে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের আইডি হ্যাক হওয়ার অভিযোগকে রাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি তুলে ধরেন মঞ্চ ২৪ এর নেতারা। সেগুলো হলো-জেফরি এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক নথির আলোকে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন, সামরিক বাহিনীর তথ্য ফাঁস ও বডি ক্যামেরা লিকের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা, নির্বাচনের আগে সাইবার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা স্বীকার ও দ্রুত সংশোধন, নারী, শিশু ও সাধারণ জনগণের নিরাপত্তায় জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর বাস্তবায়ন।


