যুক্তরাষ্ট্র যখন নিজেই রাশিয়ার কাছে থেকে পারমাণবিক জ্বালানি কিনছে, তখন ভারতকে কেন সেই সুযোগ দেওয়া হবে না? ভারত সফরে এসে ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি এ প্রশ্ন রাখেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
চার বছর পর দুই দিনের ভারত সফরে বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লিতে পৌঁছান রুশ প্রেসিডেন্ট। তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ২৩তম ভারত–রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে পুতিনের এই ভারত সফরকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নরেন্দ্র মোদির এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, নয়াদিল্লির বিমানবন্দরে লাল গালিচায় রুশ প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানো হয়। দুজনের আলিঙ্গন, একই গাড়িতে যাত্রা এবং সেদিন রাতেই নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ব্যক্তিগত নৈশভোজ-সব মিলিয়ে দুই নেতার শক্তিশালী বন্ধুত্বের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ভারত সফর শুরুর প্রথম দিনই মোদি সরকারের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক চাপকে তীব্রভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন পুতিন।
যুক্তরাষ্ট্র যখন ভারতকে রুশ জ্বালানি না কেনায় চাপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত শুল্কের হুমকি দিচ্ছে তখন ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুতিন পাল্টা যুক্তি তুলে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের কাছে থেকেই তো পারমাণবিক জ্বালানি কিনছে। তারা যদি এটা করতে পারে, তাহলে ভারত কেন পারবে না? বিষয়টি খোলামেলা আলোচনার দাবি রাখে এবং আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলতে প্রস্তুত।’
সম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার তেল কেনায় বিশ্বজুড়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ভারতের রাশিয়ার থেকে তেল কেনার অর্থ দিয়েই ইউক্রেন যুদ্ধে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের যোগান দিচ্ছে মস্কো। মোদি সরকার রুশ তেল কেনা থেকে বিরত না থাকলে ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপেরও হুমকি দেন তিনি।
ট্রাম্পের এ হুঁশিয়ারি আমলে নিয়ে মস্কো থেকে তেল কেনা বন্ধের ঘোষণা দেয় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা জানায়, ধীরে ধীরে রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে তারপর বন্ধ করা হবে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে ডিসেম্বরে ভারতের রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পুতিন বলেন, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে কিছুটা সাময়িক সমন্বয় ঘটেছে। তবে সামগ্রিক বাণিজ্য আগের মতোই রয়েছে।’
তার ভাষায়, ‘এটি খুবই সামান্য ওঠানামা। রুশ তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের বাণিজ্য ভারতে স্বাভাবিকভাবেই চলছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ নিয়ে পুতিন বলেন, ‘ট্রাম্পের কিছু উপদেষ্টা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন- এ ধরনের নীতি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে লাভবান করবে। তবে এটি বিশ্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দুরুত্ব কেবল বাড়িয়ে দিচ্ছে।’
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের অরিতিক্ত শুল্ক চাপ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির সব ধরনের লঙ্ঘন শিগগিরই সমাধান করবে বলেও আশা করেন তিনি।
পুতিন জানান, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধিই এবারের সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। রাশিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায় বলেও জানান রুশ প্রেসিডেন্ট।
এদিকে রাশিয়ার উপ-ক্রেমলিন স্টাফ প্রধান ম্যাকসিম ওরেশকিন জানান, বিশ্ব বাণিজ্য এখন শক্তভাবে জ্বালানিনির্ভর। তাই রাশিয়া চায় ভারত আরও নানাবিধ পণ্য রপ্তানি করুক।
অন্যদিকে, ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল জানান, ভারত রাশিয়ায় গাড়ি, ইলেকট্রনিকস, ডেটা-প্রসেসিং যন্ত্রপাতি, ভারী যন্ত্রাংশ, শিল্প উপাদান, টেক্সটাইল এবং খাদ্যপণ্য রপ্তানি বাড়াতে চায়।


