নড়াইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক আলোচনা সভায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে দলটির জেলা সমন্বয় কমিটির এক সদস্যের বিরুদ্ধে।
শনিবার দুপুরে নড়াইল পৌর এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়, কালিয়া উপজেলার পাঁচগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান এসএম সাইফুজ্জামান সভায় উপস্থিত ছিলেন এবং এনসিপির জেলা কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলে কয়েকজন নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ সময় কয়েকজন জুলাইযোদ্ধা ও তাদের অনুসারীরা মঞ্চে বসা সাইফুজ্জামানের দিকে তেড়ে যান এবং একপর্যায়ে তাকে মারধর করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বাঁচার জন্য পাশের একটি রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করেন সাইফুজ্জামান। পরে বিক্ষুব্ধরা তাকে ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী’ আখ্যা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার দাবি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, জুলাইযোদ্ধা পরিচয়ধারী কয়েকজন এনসিপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামানকে কিল-ঘুষি মারেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির নড়াইল জেলার প্রধান সমন্বয়কারী এম শাব্বির আহমেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব মাহমুদা সুলতানা রিমি।
পলইডাঙ্গার জুলাইযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাইফুজ্জামান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। তার মতো সুবিধাভোগীকে এনসিপির কমিটিতে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনতিবিলম্বে তাকে বাদ দিতে হবে।’
অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান এসএম সাইফুজ্জামান বলেন, ‘আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হয়েছি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে এনসিপির জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠান সম্পর্কে আমি জানতাম না, তাই উপস্থিত ছিলাম না।’
জেলা প্রধান সমন্বয়কারী এম শাব্বির আহমেদ বলেন, ‘আলোচনা সভায় যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, সেটি কেন্দ্রে জানানো হবে।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩ জুন এম শাব্বির আহমেদকে প্রধান সমন্বয়কারী ও শরিফুল ইসলামকে যুগ্ম সমন্বয়কারী করে ২১ সদস্যবিশিষ্ট নড়াইল জেলা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এ কমিটির অনুমোদন দেন।


