ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের গোবরডাঙ্গা গ্রামে চলছে শোকের মাতম। মালয়েশিয়ায় নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন এই গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছোট ছেলে নজরুল ও তার বাগদত্তা স্ত্রী। নজরুলের মৃত্যুতে এখন শোকে দিশেহারা মোতালেবের পরিবার।
মোতালেবের অভিযোগ, মালয়েশিয়ায় নজরুল ও তার বাগদত্তা কোহিনুরকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
জীবিকার তাগিদে ২০১৮ সালে মালয়েশিয়া যান নজরুল ইসলাম। সেখানে প্রথমে পাম বাগানে কাজ করলেও ২০১৯ সালে করোনার সময় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তিনি স্রামব্যাং জেলার কাম পাং চুয়া এলাকায় জমি লিজ নিয়ে গবাদি পশুর খামার শুরু করেন। বর্তমানে সেই খামারে শতাধিক গরু-ছাগলসহ কয়েক কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।
নজরুলের বাবা মোতালেব হোসেন জানান, নজরুলের খামারে একজন বাংলাদেশি ও স্থানীয় এক মালয়েশিয়ান ব্যক্তি অংশীদার ছিলেন। ব্যবসার অংশীদারি ও গরু বিক্রির টাকা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে পার্টনারদের সাথে নজরুলের বিরোধ চলছিল। এর আগেও তাকে কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়।
নজরুলের বড় ভাই জহির উদ্দিন জানান, গত ১৪ এপ্রিল পরিবারের সাথে নজরুলের শেষ কথা হয়। এরপর ১৬ এপ্রিল তারা ঝিনাইদহ সদরের প্রবাসী শান্তির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের খবর পান।
নারায়ণগঞ্জের কোহিনুর বেগমের সাথে নজরুলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কোহিনুর মালয়েশিয়ায় গিয়ে নজরুলের সাথেই ছিলেন এবং তাদের বিয়ে করার কথা ছিল।
মোতালেবের পরিবারের সদস্যরা জানান, বিরোধের কারণে তারা নজরুলকে সব বিক্রি করে দেশে ফিরতে বলেছিলেন। নজরুলও খামারের পশু বিক্রি শুরু করেছিলেন। কিন্তু এর মধ্যেই তাকে ও তার বাগদত্তাকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার খবর আসে। বর্তমানে তার মরদেহের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
গ্রামের মানুষ জানান, নজরুল খুব পরিশ্রমী ছিলেন। মোবাইলে কথা বলার সময় তিনি সবাইকে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। নজরুলের মা রসুলা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ১৪ এপ্রিলের পর থেকে ছেলের ফোন বন্ধ ছিল। তিনি সরকারের কাছে ছেলের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ জানান, বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রবাসী কল্যাণ শাখায় আবেদন করলে সরকার পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে।


