বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ্র অপমৃত্যু মামলা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে সম্প্রতি। গেল ২৯ বছর ধরে তার পরিবারের পাশাপাশি ভক্তরাও এ মৃত্যুকে আত্মহত্যা মানতে নারাজ। তারা নানাভাবে এ হত্যার বিচার চেয়ে আসছে। এক্ষেত্রে অভিনব এক পন্থা বেছে নিয়েছেন সালমান ভক্ত মাসুদ রানা নকীব।
তিনি মেট্রোরেলে ‘সালমান হত্যার বিচার চাই’ এমন লেখা সম্বলিত পোস্টার নিয়ে ভ্রমণ করেছেন। এমন প্রতিবাদের কারণ হিসেবে নকীব টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি চেয়ে সালমান শাহ্ ভক্ত ও দেশের সচেতন নাগরিকদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কাজটি করেছি। মানুষজন পোস্টারটি দেখে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আগ্রহী হবে। তারাও আমাদেরকে বলেছেন, তারা সালমান শাহ্ হত্যার বিচার চান।’
এর আগে বিভিন্ন মানবন্ধন আয়োজন, ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পোস্টার লাগানোসহ নানা প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করেছেন নকীব। কয়েক বছর আগে সালমান শাহ্র হত্যার বিচার চেয়ে তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবে একাই ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
আদালতের নির্দেশে ২১ অক্টোবর সালমান শাহ্ হত্যা মামলাটি দায়ের করেন নায়কের মামা আলমগীর কুমকুম। এ মামলায় আসামি করা হয়েছে চলচ্চিত্র প্রযোজক আজীজ মোহাম্মদ ভাই, সালমানের সাবেক স্ত্রী সামীরা, চলচ্চিত্রের খলভিনেতা ডনসহ ১১ জনকে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সালমান শাহের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর পুলিশ, সিআইডি, র্যাব, পিবিআইসহ একাধিক সংস্থা তদন্ত চালায়। সব প্রতিবেদনেই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হলেও সালমানের পরিবারের আপত্তিতে প্রতিবারই তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন করা হয়।
মাত্র ২৫ বছরের জীবনে সালমান শাহ ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। সবকটি বাণিজ্যিকভাবে সফল। নব্বইয়ের দশকে দেশের চলচ্চিত্রে রোমান্টিক হিরোর নতুন ধারা শুরু হয় তার হাত ধরে। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘বিক্ষোভ’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘প্রেমযুদ্ধ’সহ প্রতিটি সিনেমাই বক্স অফিসে হিট হয়।


