সিগারেটের ওপর চার স্তরের বদলে তিন স্তরে কর আরোপের প্রস্তাব করেছে অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)। মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বর্তমানে সিগারেটকে নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম-এই চার স্তরে ভাগ করে প্রতি স্তরের জন্য আলাদা কর ধার্য করা হয়। আত্মার প্রস্তাবে বলা হয়, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট ব্যবহারকারী বেশি। অথচ এই দুই স্তরে করের হার কম। তাই নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে একটি স্তরে রূপান্তর করতে হবে।
এ দুটি স্তর একত্রিত করার পর প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের প্যাকেটের মূল্য ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার প্যাকেটের মূল্য ১৫০ টাকা ও প্রিমিয়াম স্তরের ১০ শলাকার প্যাকেটের মূল্য ২০০ টাকা বা এর চেয়ে বেশি নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পুরক শুল্কের সাথে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে চার টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ করা হলে চলতি অর্থ বছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে বলে জানায় আত্মা।
এ ছাড়াও আত্মার পক্ষ থেকে বিড়ি, জর্দা ও গুলের ওপর ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সম্পুরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি মানুষ ধুমপানে নিরুৎসাহিত হবে বলে জানায় আত্মা।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, কর এবং মূল্য বাড়ালে সিগারেটের ব্যবহার কমে। এটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে প্রমাণিত। কাজেই আগামীতেও কর ও মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় আত্মা’র প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন নেন ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ-এর হেড অব অনলাইন (বাংলা) মনির হোসেন লিটন, দৈনিক জনকন্ঠের চিফ রিপোর্টার কাওসার রহমান, বাংলা ট্রিবিউনের বিজনেস ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম, আত্মা’র কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন এবং কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ ও মিজান চৌধুরী।


