আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যেকোনো দিন জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলেও জানিয়েছে দলটি।
বুধবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
এ সময় দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ উপস্থিত ছিলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘নির্বাচনের আগে যেকোনো দিন আমরা গণভোট চাই। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, সরকার যদি বলে তাহলে উনারা নির্দেশ অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত আছেন। আমরা আগামীকাল প্রধান উপদেষ্টাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকলিপি দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই দাবিটা জানাব। আমাদের দাবি স্পষ্ট—গণভোট যেন নির্বাচনের আগেই হয়।’
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সমমনা দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী ১১ নভেম্বর রাজধানীতে একটি বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাঁচ দফা দাবির ভিত্তিতে আমাদের আন্দোলন চলমান রয়েছে। আমাদের মূল ফোকাস জুলাই সনদের অধ্যাদেশ নয়, বরং আদেশ জারির বিষয়টি। এটি অনেক বিলম্বিত হয়ে গেছে। যদিও এ ধরনের আদেশ জারি করতে এক বা দুই দিনের বেশি লাগে না। আমরা বলেছি, দ্রুত ও অবিলম্বে আদেশটি জারি করতে হবে। এতে গণভোটের আদেশ আরও শক্তিশালী হবে।’
তিনি জানান, সংস্কারের মধ্যে রাজনৈতিক দলের মতামত এসেছে, কিন্তু সব রাজনৈতিক দল মানে সব জনগণ নয়। রাজনৈতিক দলের বাইরে জনগণের প্রতিনিধিত্বের জায়গা রয়েছে। এজন্যই স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নির্বাচন করতে পারেন এবং জনগণ তাদের ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করে। ‘তাহলে প্রশ্ন উঠবে—যদি গণভোটে অংশগ্রহণ না থাকে, তবে এটি কীভাবে জনগণের মতামত প্রতিফলিত করবে? গণভোট হলে জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এই আদেশ রাষ্ট্রীয় দলিল হিসেবে শক্তিশালী হবে এবং এটি কার্যকর হলে বাংলাদেশ নতুন পথে এগিয়ে যাবে—যে স্বপ্ন আমরা দেখতে চাই, তা পূর্ণ হবে।’
তিনি বলেন, ‘সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হলে নানা জটিলতা দেখা দেবে। সবার মনোযোগ থাকবে প্রার্থীর দিকে, ফলে গণভোট গৌণ হয়ে যাবে।’
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা হয় এমন কিছু হলে যেন কঠোরভাবে দমন করে সরকার—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী এখন যেভাবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে রয়েছে, সেটি কার্যকর থাকবে। আর ভোটে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বও তারা পালন করবে।’
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রবাসী ভোটার রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে। বাংলাদেশের জামায়াতের আমির সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক ও সৌদি আরব সফর করেছেন, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি আমরা নির্বাচন কমিশনের নজরে এনেছি।’
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) একটি দলের কাছে আসন চেয়েছে—জামায়াতের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আটটি ইসলামী দলের সঙ্গে আলোচনা করছি। আমরা জোট করব না, তবে পারস্পরিক সমঝোতায় প্রার্থী দেব। অর্থাৎ এক দল প্রার্থী দিলে কোনো আসনে অন্য দল প্রার্থী দেবে না।’
ইসলামী দলগুলোর বাইরে এনসিপির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামী দলগুলোর বাইরে অন্য দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা চলছে। আমাদের সঙ্গে দলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।’
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘আমরা এর আগে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ১৮ দফা সুপারিশ নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছিলাম। তার কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট ভোট বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে আমরা নির্বাচন চাই। নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং নির্বাচন কমিশনের কর্মপন্থা নিয়েও আলোচনা করেছি।’


