কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। মঙ্গলবার থেকে বন্ধ শুরু হয়েছে অফিস-আদালতে। ছুটিতে ফাঁকা হয়ে পড়ছে চট্টগ্রাম নগর। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। একই সঙ্গে টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৭।
ইতোমধ্যে বাস ও ট্রেন স্টেশনগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়েছে। এই সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে অপরাধী চক্র এমন আশঙ্কায় ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ‘মলম পার্টি’ ও ‘অজ্ঞান পার্টি’র মতো অপরাধ ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সিএমপির একাধিক কর্মকর্তা জানান, ঈদের ছুটিতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হবে চেকপোস্ট, যেখানে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হবে। পাশাপাশি নগরজুড়ে টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
সিএমপির সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশীদ বলেন, ঈদকে সামনে রেখে এবার যৌথবাহিনীও মাঠে রয়েছে। অনেকেই বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ফাঁকা রেখে গ্রামের বাড়িতে যাবেন। এ কারণে বাসাবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নগরবাসীকে কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিএমপি।
পুলিশের পরামর্শে বলা হয়েছে, বাসার দরজায় অতিরিক্ত নিরাপত্তাসম্পন্ন তালা ব্যবহার, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার ফাঁকা বাসায় না রাখা, সিসিটিভি ক্যামেরা ও অ্যালার্মসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা, আবাসিক এলাকায় রাতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ এবং তাদের পরিচয়পত্র সংরক্ষণ করা। সন্দেহজনক কাউকে দেখলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় জানাতে বলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় সেবা ৯৯৯ বা সিএমপির নিয়ন্ত্রণ কক্ষে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঈদের ছুটিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদারেও আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভল্ট এলাকার সিসিটিভি কাভারেজ নিশ্চিত করা, নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক দায়িত্ব পালন তদারক করা এবং পালাক্রমে দায়িত্বে কর্মকর্তা নিয়োগ করা। কোনো সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে।
আমিনুর রশীদ আরও জানান, ঈদের সময়ে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। সংশ্লিষ্ট থানাগুলো আবাসিক এলাকার তালিকা ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। বিশেষ নজর থাকবে আবাসিক এলাকা ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোর ওপর।
অন্যদিকে, র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম মোজাফফর হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে নিরাপত্তা কার্যক্রম চলমান থাকবে। যেকোনো সহিংসতা বা নাশকতা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে র্যাব। বুধবার প্রেস ব্রিফিং করে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।
তিনি জানান, অলংকার, একে খান বাসস্ট্যান্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনার মাধ্যমে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।


