আগামী ফেব্রুয়ারিতে একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেন, আমরা বিচার বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে গণভোট আয়োজন করা হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা জানান।
এতে সংস্কারের লক্ষ্য ‘কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না’ আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘বরং নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সময়ে উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করা হবে।’
জুলাই সনদের আলোকে গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনের প্রশ্নও নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা। সেই প্রশ্ন কেমন হবে ভাষণে সে কথা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘গণভোটের প্রশ্ন হবে এরকম–আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলির প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?
(ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদের বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
(খ) আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলির প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
(গ) যে ৩০টি বিষয়ে জাতীয় জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত্য হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
(ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন হবে।’
গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ে একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ বা না’ দিয়ে মতামত জানাতে হবে বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টা।


