বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের মতোই আছে। তাকে যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তিনি তা গ্রহণ করতে পারছেন।
শনিবার রাত ৯টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন তার চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা নিতে নিতে আশা করি খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে উঠবেন।’
ডা. জাহিদ বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন ও নির্দেশনা দিচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশের মেডিকেল বোর্ডের পাশাপাশি ডা. জোবাইদা রহমান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, চীনসহ বেশ কিছু দেশের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে তার চিকিৎসা চলছে।
বিদেশে নেয়ার বিষয়ে ডা. জাহিদ বলেন, বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে সার্বিকভাবে উনার শারীরিক সুস্থতা, মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত ও সুপারিশের ওপর। সেই সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে গ্রহণ করা হবে।
২৩ নভেম্বর রাতে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তার ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা ‘সংকটাময়’ বলে জানান বিএনপি মহাসচিব। সেদিন থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনকে ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ)’ রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
ডা. জাহিদ বলেন, ম্যাডামের চিকিৎসা কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসকদের সঙ্গে, মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে চিকিৎসা কার্যক্রম যাতে কোনো অবস্থাতেই ব্যাহত না হয় সেই লক্ষ্যে উনি সার্বিক সহযোগিতা এবং দিক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, এ ছাড়া ম্যাডামের পাশে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শর্মিলা রহমান, তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারসহ আত্মীয় স্বজন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সব সদস্যসহ সবার সার্বিক সহযোগিতায় এবং এভারকেয়ার হসপিটালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা এবং নার্সদের সহযোগিতায় খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, চীন, যুক্তরাষ্ট্রের জন হোপকিংস এবং মাউন্ট সিনাইসহ বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে যৌথ আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতেই তার (খালেদা) চিকিৎসা অব্যাহত আছে ও চিকিৎসা অব্যাহত থাকবে।’
অধ্যাপক জাহিদ বলেন, ‘আমরা আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে এবং সকল মানুষের কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চাই ‘
‘প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যরা, অনেকেই তার দোয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি,’ যোগ করেন তিনি।
এভারকেয়ার হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ছাড়াও ৩০০ রোগী চিকিতসাধীন আছেন, তাদের চিকিতসা সেবা যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য হাসপাতালে দলীয় নেতা-কর্মীদের ভিড় না করার জন্য অনুরোধও জানান অধ্যাপক জাহিদ।
বিভিন্ন দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জাহিদ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসার ব্যাপারে দেশের বাইরের অনেক রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও দেশ তাদের আগ্রহ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে। সেজন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ও সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।


