রাজশাহীর পবা উপজেলার বামুনশিকড় এলাকায় ঋণের দায়ে পরিবারের তিনজনকে হত্যার পর গৃহকর্তা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ। নিহতরা হলেন- মিনারুল ইসলাম (৩০), তার স্ত্রী সাধিনা বেগম (২৮), ছেলে মাহিম (১৩) এবং কন্যা মিথিলা (১৮ মাস)।
শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে তাদের বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের শ্বশুর আবদুল মালেক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মিনারুল কৃষিকাজ করতেন এবং ঋণের বোঝায় ছিলেন। পরিবারটি মাটির ঘরে বসবাস করতেন। উদ্ধারকালে মা ও মেয়ের মরদেহ ঘরের উত্তরের অংশে পাওয়া গেছে, আর বাবা মিনারুল ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং ছেলে মাহিম দক্ষিণের ঘরে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মাহিম খড়খড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান ওই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। টাইমস অব বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে ও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা মিনারুলের চিঠি থেকে জানা যায়, পুরো পরিবারটি ঋণগ্রস্ত ছিল। এ কারণে স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘মিনারুলের ভাইদের প্রতিও ক্ষোভ ছিল। চিঠিতে সে কথাও তিনি লিখেছেন। বলেছেন, তাদের মৃত্যুর পর ভাইরা যেন কেউ লাশ স্পর্শ না করে।’
আরএমপি কমিশনার আবু সুফিয়ান জানান, পুলিশের ফরেনসিক টিম কাজ করছে। আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা সম্ভব।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মিনারুল প্রথমে স্ত্রীকে ওড়না দিয়ে এবং মেয়েকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ছেলেকে শ্বাসরোধ করে নিজে আত্মহত্যা করেন।
উদ্ধার করা চিরকুটে মিনারুল লিখেছেন, ‘আমি নিজ হাতে সবাইকে মারলাম এই কারণে যে, আমি একা যদি মরে যাই, তাহলে আমার স্ত্রী-সন্তান কার কাছে থাকবে? কষ্ট আর দুঃখ ছাড়া তারা কিছুই পাবে না। আমি মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়া-দাওয়ার অভাবে। এত কষ্ট আর মেনে নিতে পারলাম না। আমাদের বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো হলো। কারো কাছে আর কিছু চাইতে হবে না।’
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। সব বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, মিনারুল একসময় জুয়া ও মাদকাসক্ত ছিলেন। এতে তার বিপুল পরিমাণ ঋণ হয়। অনেক সময় পরিবারটির অনাহারে দিন কাটত।


