যদি বিএনপির ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে আনা যায়, তাহলে আওয়ামী লীগের দোষ কী তা জানতে চেয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘আইন বহির্ভূতভাবে যদি বিএনপির ঋণখেলাপিদের আপনি নির্বাচনে আনতে চান, তাহলে আওয়ামী লীগ কী দোষ করেছে? লুটেরাদের জন্য আমরা বাংলাদেশকে হারাম করে দেব। ব্যাংক চোরদের সংসদে পাঠিয়ে কখনোই তাদের ধরা যাবে না।’
বুধবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর রিট খারিজ হওয়ার পর হাসনাত সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। মনোনয়ন ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা ওই রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেয়। এই আদেশের ফলে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
এ সময় জুলাইযোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বক্তব্য উদ্ধৃত করে হাসনাত বলেন, ‘ভোট ডাকাতি, ব্যাংক ডাকাতি এবং ঋণখেলাপিদের জন্য বাংলাদেশকে হারাম করে দেওয়া হবে। নির্বাচনকালীন দেশের রাজনীতিতে একটি স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির সব লুটেরাদের পরিচয় একটাই। তারা জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার করে সন্তানদের বিলাসী জীবনযাপনে ব্যয় করে।’
‘অনেক প্রার্থী কার্যত বিদেশি নাগরিক, যারা কেবল নির্বাচনের সময় দেশে ফিরে আসে। শিয়ালকে মুরগি পাহারার দায়িত্ব দিলে যেমন হয়, ঠিক তেমনিভাবেই যারা চোর, তাদের সংসদে পাঠানো হচ্ছে ব্যাংক চোর ধরার জন্য,’ যোগ করেন তিনি।
গণআন্দোলনকে দীর্ঘমেয়াদি লড়াই হিসেবে বর্ণনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘তার দল প্রতিনিধিত্বশীল ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত সরকার দেখতে চায়। যারা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় যাবে, তারা ক্ষমতায় যাক। সেটা নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। ঋণখেলাপিদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ জনগণ আর মেনে নেবে না।’
৫ আগস্টের মধ্য দিয়ে জনগণ ইতোমধ্যেই তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, এরপর নির্বাচন কমিশনও তাদের বাদ দিয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ আবার চূড়ান্তভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করবে বলে দাবি করেন তিনি।


