রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে ককটেল বিস্ফোরণে তরুণ নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার অভিযানের সময় বাবাকে জড়িয়ে ধরা এক শিশুকন্যাকে চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা চলছে।
ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সূত্র ধরে শিশুটিকে চড় মারার ব্যক্তি শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
বুধবার রাতে জেনেভা ক্যাম্পে জাহিদ নামে ২০ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত হন। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্যাম্প থেকে রুস্তম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রুস্তমকে ধরে নেওয়ার সময় তার শিশুকন্যা বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। তখন ভিড়ের মধ্যে থাকা এক ব্যক্তি শিশুটির গালে চড় মারেন এবং লাল রঙের ক্যাপ পরা আরেকজন শিশুটিকে সরিয়ে দেয়।
এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার বাকির হোসেন মৃধা টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘পুলিশ কোনোভাবেই এর দায় এড়াতে পারে না। এ ঘটনা অ্যাসল্টের পর্যায়ে পড়ে। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ।’
ডিএমপির তেজগাঁও জোনের এডিসি (মোহাম্মদপুর) জুয়েল রানা টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘পুরো ঘটনার ভিডিওফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। শিশুকে চড় মারা ব্যক্তি পুলিশ সদস্য নাকি অন্য কেউ তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে তেজগাঁও বিভাগের ডিসি তদন্ত কমিটি গঠন করতে পারেন।’
ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রেপ্তারকৃত রুস্তমকে নিয়ে যাওয়ার সময় তার মেয়ে বাবাকে শক্ত করে ধরে কান্না শুরু করে। কিছুক্ষণ পর ভিড়ের মধ্য থেকে কেউ তার গালে চড় মেরে শিশুটিকে সরিয়ে নেন।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, রুস্তম মাদক ব্যবসা ও হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। আদালতে পুলিশের সামনেই যেমন ডিম ছোড়া বা হামলার ঘটনা ঘটে, ক্যাম্প এলাকায় তেমনিভাবে জনতার মধ্যে থেকে শিশুটিকে চড় মারা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, শিশুকে চড় মারা ব্যক্তি পুলিশ নন। শনাক্তে চেষ্টা চলছে।


