কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে মোহাম্মদ ইউনুছ (২৬) নামের এক রোহিঙ্গা যুবকের ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বিআরএম-১৯ পিলার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও সীমান্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)-এর পুঁতে রাখা স্থলমাইনে এ বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।
আহত ইউনুছ উখিয়ার থাইংখালী ১৯ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ডি-২ ব্লকের বাসিন্দা সবুল হকের ছেলে। বিস্ফোরণের পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে প্রথমে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিস্ফোরণের ঘটনাটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ঘটেছে। আমরা বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছি এবং সীমান্ত এলাকায় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য বলা হয়েছে।’
সীমান্ত এলাকার সক্রিয় সূত্রগুলো জানায়, মিয়ানমারের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে পুঁতে রাখা স্থলমাইন দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায়ই এসব মাইনে বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে।
এর আগে গত ১০ এপ্রিল উখিয়ার বালুখালী সীমান্তে বিআরএম-২১ পিলার সংলগ্ন এলাকায় নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মো. সাদেক (২৫) নামের এক রোহিঙ্গা যুবক স্থলমাইন বিস্ফোরণে পা হারান। তিনি উখিয়ার ১০ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের এফ-১৩ ব্লকের বাসিন্দা।
এছাড়া, গত ২৯ মার্চ পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী সীমান্তে নাফ নদীর শূন্যরেখায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে আব্দুল হাকিম (১৫) নামের এক রোহিঙ্গা কিশোর গুরুতর আহত হন। একইভাবে ২৬ মার্চ আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তে আরেকটি বিস্ফোরণে মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম (২৫) নামের এক যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়।
অর্থাৎ ১৭ দিনের ব্যবধানে উখিয়া উপজেলার বালুখালী ও পালংখালী সীমান্তে আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৪ রোহিঙ্গা পা হারাল।


