রমজানের সিয়াম সাধনা শেষে ঈদ আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। এবারে চৈত্রের খরতাপে ঈদ এলেও, আবহাওয়া এখনও মোটামুটি অনুকূলেই আছে বলা যায়। তবুও নির্বিঘ্নে ঈদ উৎসব উদযাপনে এবং বাহারি আয়োজনের মধ্যেও নিজেকে সুস্থ রাখতে এ সময় একটু বাড়তি সতর্ক থাকুন। এই ঈদে কীভাবে নিজেকে সুস্থ আর সতেজ রাখবেন, রইল তেমনই কিছু টিপস।
অল্প খাবার বার বার
অনেকদিনের নিয়ন্ত্রিত খাবার-দাবারের পর এ সময় হঠাৎ অতিরিক্ত ভারি খাবার খেলে শরীর খারাপ হয়ে যেতে পারে। তাই বলে কি, ঈদে তৈরি উপাদেয় সব রেসিপি বাদ দেবেন? একেবারেই না, এ সময় বরং একবারে অনেক বেশি খেয়ে না ফেলে, বারে বারে অল্প খাবার ভালো করে চিবিয়ে খান। এতে মুখরোচক সব খাবার খাওয়াও হবে, শরীরও খারাপ হবে না। সকালটা শুরু করুন দই-চিড়া-মুড়ি বা ফল জাতীয় হালকা খাবারে। প্রত্যেকবার খাওয়ার পর অন্তত ২০ মিনিট বিরতি নিন।
পরিমিত খাদ্যগ্রহণ
ঈদের সময় প্রতিদিনই আমরা কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাই, সাথে চলে প্রচুর খাওয়া-দাওয়া। তাই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিও থাকে। সুস্থ থাকতে এ সময়টাতে পরিমিত খাবার খাওয়া উচিত। মিষ্টি জাতীয় খাবার, তেল, চর্বিযুক্ত খাবার অল্প পরিমাণে খান, এতে শরীরে সুস্থতা বজায় থাকবে। ডায়াবেটিস বা হার্টের সমস্যা যাদের আছে, তারা এ সময় খাদ্য গ্রহণে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন।
ফাইবারযুক্ত খাদ্যগ্রহণ
ঈদে যেহেতু সবার বাড়িতেই অনেক খাবারের আয়োজন থাকে, তাই এই সময় রোজ তেল-মসলাযুক্ত খাবারই বেশি খাওয়া হয়। তাই একটু বাড়তি সতর্ক না হলে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। হজমশক্তি ঠিক রাখতে এ সময় ভারি খাবার কম খেয়ে ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। যথেষ্ট পরিমাণ সবজি, ফলমূল খান।
প্রচুর পানি পান
এতদিনের রোজা শেষে শরীরে পানির ভারসাম্য ফেরাতে এ সময় প্রচুর পানি পান করুন। চিনিযুক্ত শরবত বা কোমল পানীয়ের পরিবর্তে ডাবের পানি বা ঘরে তৈরি ফলের রস পান করুন। এতে শরীর ফুরফুরে আর চাঙ্গা থাকবে।
পর্যাপ্ত হাঁটা-চলা ও ঘুম
এত খাবেন-দাবেন, উদযাপন করবেন। কিন্তু একেবারেই হাঁটাহাটি, শরীরচর্চা বাদ দিয়ে দেবেন, তাহলে কিন্তু খুব মুশকিল। অলস সময় না কাটিয়ে, উৎসবের সময়ও সক্রিয় থাকুন। শরীর ঠিক রাখতে হাঁটা-চলা বা হালকা ব্যায়াম করুন। আবার ঈদের ব্যস্ততার মাঝেও বিশ্রাম নিতে ভুলে যাবেন না যেন। সাত থেকে আট ঘন্টা ভালো ঘুমের চেষ্টা করুন। শরীরকে সক্রিয় রাখার পাশাপাশি সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত ঘুমও জরুরি।
ঈদের সময়ে শারীরিক সুস্থতা ছাড়া উদযাপন সম্ভব নয়। একটু বাড়তি যত্নে নিজে এবং পরিবারের সকলে সুস্থ থাকবেন। এতেই ঈদ আনন্দ আরও বহুগুণ বেশি উপভোগ্য হবে।


