নগরজীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রকৃতি উদ্যান ও বিনোদনকেন্দ্রে ভিড় জমিয়েছেন হাজারো ভ্রমণপিপাসু।
কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের ঢলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে এ অঞ্চলের পাহাড়, হ্রদ ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকাগুলো।
চট্টগ্রাম নগরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও সি ওয়ার্ল্ডে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম। ঈদের প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পরিবারগুলো শুক্রবার থেকে ভিড় বাড়তে থাকে।
কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের বিপণন ব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, রোলার কোস্টার, ফেরিস হুইল ও পাইরেট শিপের মতো জনপ্রিয় পারিবারিক রাইডের পাশাপাশি এবার নতুন কয়েকটি আকর্ষণ যুক্ত করা হয়েছে। নতুন রাইডগুলোর মধ্যে রয়েছে টর্নেডো ৩৬০, এয়ারবোর্ন শট, ফ্লাইং বাস ও স্কাই হুপার। তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটির পুরো সময় প্রতিদিন পাঁচ হাজারের বেশি পর্যটক আসবেন বলে আমরা আশা করছি।’
কাছেই অবস্থিত চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা শিশুদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। চিড়িয়াখানার উপ-কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, ‘এই পাঁচ দিনে প্রায় ৬০ হাজার দর্শনার্থী আসবেন বলে আমরা আশা করছি। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ হাজার মানুষ। বর্ষার বৃষ্টির কারণে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। তবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত কর্মীদের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২৪ জন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।’
মহামায়া ইকোপার্কে হ্রদ ও পাহাড়ের মুগ্ধতা
নগরের বাইরে মিরসরাইয়ে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ মহামায়া ইকোপার্কও প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ি ঝরনা ও স্বচ্ছ জলের মনোমুগ্ধকর সমন্বয় পর্যটকদের টানছে সেখানে।
পার্কটির ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক তাসলিম উদ্দিন তৌহিদ বলেন, বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই প্রায় ৫০০ পর্যটক সেখানে ভিড় করেন। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার থেকে ঈদের ছুটি কার্যত পূর্ণমাত্রায় শুরু হওয়ায় প্রতিদিন এক হাজারের বেশি দর্শনার্থীর লক্ষ্যমাত্রা আমরা সহজেই অতিক্রম করছি।’
পর্যটকদের চাহিদা সামাল দিতে পার্কের সব ধরনের জলযান চালু রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬৪টি কায়াকিং বোট, যা তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়; ৫০ থেকে ৫৫টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা এবং স্থানীয় জেলেদের পরিচালিত ১২ থেকে ১৪টি পিনাকল বোট।
ভ্রমণকারী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমি চট্টগ্রাম শহরে থাকি, তবে ঈদের জন্য গ্রামে এসেছি। আবহাওয়া বেশ গরম হলেও পরিবারের সঙ্গে পাহাড় আর পানির মধ্য দিয়ে নৌকা চালানোর অভিজ্ঞতা সত্যিই দারুণ।’
পর্যটকদের এই ঢল জেলার ১৫টি উপজেলাজুড়েই ছড়িয়ে পড়েছে। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা এবং সীতাকুণ্ডের ব্যতিক্রমধর্মী গুলিয়াখালী সৈকতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এ ছাড়া ডিসি পার্ক ও আরশিনগর ফিউচার পার্কেও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল সর্বোচ্চ।
এই বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। পতেঙ্গা ও আশপাশের ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি দল মোতায়েন করা হয়েছে।
যদিও ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরু হয়েছিল ২৫ মে, তবে প্রকৃত অর্থে ভ্রমণ মৌসুমের জোয়ার শুরু হয় শুক্রবার ২৯ মে থেকে। স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, আগামী শুক্রবার পর্যন্ত এই উৎসবমুখর ভিড় অব্যাহত থাকবে এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলো প্রাণচঞ্চল থাকবে।


