এক মাসের বেশি সময় পর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করা হয়েছে। আর এ কাজের জন্য হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে। তার নির্দেশ পাওয়ার পরই মাঠে নামে নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ড, পাম্প বসিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয় পানি। পাশাপাশি মাঠে যেন আবার পানি ঢুকতে না পারে সে জন্য জিওব্যাগ দিয়ে বাঁধও নির্মাণ করে দেওয়া হয়।
জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে অতিবৃষ্টি শুরু হলে স্কুলটির মাঠসহ আশপাশের এলাকায় পানি জমতে শুরু করে। নিষ্কাশনের কোনও পথ বা ব্যবস্থা না থাকায় মাঠটি কোমরসমান পানিতে ডুবে থাকে। মাঠ থেকে পানি সরানোর উদ্যোগের অভাবে গত এক মাস স্কুলে আসা-যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। শিক্ষকরা কোনোরকমে এলেও শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমছিল। যে শিক্ষার্থীরা আসছিল তাদের জন্য ছিল স্বাস্থ্যঝুঁকি।
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে তা নজরে আসে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশ দেন। আর এর পরিপ্রেক্ষিতেই নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ড মাঠ থেকে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেয়।
নোয়াখালী পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাসেল উদ্দিন বলেন, ‘উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের নির্দেশ পেয়েই দ্রুত আমরা পদক্ষেপ নিই। শিশুরা তাদের মাঠ ফিরে পেয়ে আনন্দিত, আমরাও কাজটি করতে পেরে সন্তুষ্ট।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ, নির্বাহী প্রকৌশলী হালিম সালেহী এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (বেগমগঞ্জ) মো. রাসেল উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে মাঠে পাম্প বসিয়ে পানি সরানোর ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি মাঠটিতে যেন আবার পানি ঢুকতে না পারে সে জন্য জিওব্যাগ দিয়ে বাঁধও নির্মাণ করে দেওয়া হয়।
ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষককে পাম্পটি বুঝিয়ে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড, এতে পরবর্তীতে পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজন হলে স্কুল কর্তৃপক্ষই কাজটি করতে পারবে।
পানি সরে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্কুলেল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। আবারও মাঠে খেলাধুলা ও পাঠক্রমে অংশ নিতে পারায় উচ্ছ্বসিত শিশুরা।


